গ্রাম বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল আটক হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীরে বেদুইনদের গ্রাম খান আল আহমার ঘিরে ফেলে চারদিক থেকে বন্ধ করে দিয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গ্রাম অভিমুখে যাওয়া সব কয়েকটি রাস্তা। সেখান থেকে ফিলিস্তিনিদের আটক করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের খবর পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট মনিটর।

অনুমতি ছাড়াই নির্মিত হয়েছে দাবি করে গত সপ্তাহে গ্রামটি খালি করে ফেলার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলের উচ্চ আদালত। গ্রামটি নিশ্চিহ্ন করে ইসরায়েলি বসিত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামটি নিশ্চিহ্ন করা হলে পশ্চিম তীর দুই ভাগে ভাগ হয়ে পড়বে। এ কারণে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এর নিন্দা জানিয়ে আসছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গ্রামের চারপাশ জুড়ে ইসরায়েলি সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। ওই এলাকায় প্রবেশ করেছে সামরিক বুলডোজার। সেখানে অ্যাকটিভিস্টদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, বুলডোজার দিয়ে গ্রামের প্রবেশ পথ বন্ধ করে রেখে দিয়ে ইসরায়েলি সেনারা গ্রামটি ধ্বংস শুরু করেছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর বল প্রয়োগ করায় গ্রামটির অনেক বাসিন্দা আহত হয়েছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ ওয়েবসাইটটির দাবি, গ্রামটি থেকে তিন ফিলিস্তিনি ও এক বিদেশি অ্যাকটিভিস্টকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন ফিলিস্তিনি নাগরিক ইব্রাহিম হুসেইন আবু দাহুক, সুলাইমান ইদ হাতালিন, ওমন আবদুল্লাহ ও ফরাসি নাগরিক ফ্রাঙ্ক রোমানো।

খান আল আহমার গ্রামটিতে মূলত বেদুইন জাহালির উপজাতির বাস। ১৯৫০’র দশকে এই বাসিন্দাদের তাদের নিজ ভূমি নাকাব মরুভূমি থেকে বিতাড়িত করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। খান আল আহমারে বসতি গড়ার আগে তাদের অন্তত দুইবার নিজেদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। চারপাশে ইসরায়েলি অবৈধ দখলের মধ্যে ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তিতে ‘এরিয়া সি’ নামে পরিচিত গ্রামটিতে ৪০ টি ফিলিস্তিনি পরিবার তাঁবু ও খুপড়ি ঘরে বসবাস করে। ‘এরিয়া সি’ তে পশ্চিম তীরের ৬০ শতাংশ এলাকা চিহ্নিত করা আছে। এসব এলাকা পুরোপুরিভাবে ইসরায়েলি প্রশাসন ও নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণে।

"