অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জাহাজেই রাখার প্রস্তাব

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অস্ট্রিয়া ও ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত শুক্রবার বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত সাগর থেকে উদ্ধার করা অভিবাসী হতে ইচ্ছুক আশ্রয়প্রার্থীদের তত দিন জাহাজেই রাখা, যত দিন তাদের আশ্রয়ের আবেদনের তদন্ত সম্পন্ন না হয়। মূলত অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন। আর এতে সম্মতি দিয়েছেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগে একবার ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধারকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের ইতালির বন্দরে নামতে দিতে না চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ও চরম ডানপন্থী দল লিগার প্রধান মাত্তেও সালভিনির বিরুদ্ধে তদন্তের আদেশ দিয়েছে সে দেশের একটি আদালত।

ইতালি অনেক দিন ধরেই শরণার্থীদের নিয়ে আলোচনায় রয়েছে। ভূমধ্যসাগরের এক পাড়ে ইতালি ও অপর পাড়ে লিবিয়াসহ অন্যান্য আফ্রিকান দেশ। সেখান থেকে ইউরোপে অভিবাসী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে এসে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দেশটির ডানপন্থী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, যেসব জাহাজ সাগর থেকে ওইসব আশ্রয়প্রার্থীদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে, তাদের বিচার হওয়া দরকার। তিনি ইউরোপের অন্যান্য দেশের সমালোচনাও করেছেন আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে না দেওয়ার অভিযোগে।

ইতালি ও অস্ট্রিয়ার চরম ডানপন্থী দলগুলো বহু আগে থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিল এমন একটি ব্যবস্থা কার্যকরের যাতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের আফ্রিকাতে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আর তারপর যেন তাদের অভিবাসনের অনুমতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ আবেদন বাছাইয়ের কাজ করার সুযোগ পায়। শুক্রবার অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হারবার্ট কিক এবং ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিলভিও মাততের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন এ বলেছেন, ‘যাদেরকে ইউরোপীয় জলসীমা থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ উঠিয়ে নিয়ে আসে, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করার আগ পর্যন্ত তাদের জাহাজেই রাখা উচিত।’

ইতালির মতো অস্ট্রিয়াতেও অভিবাসী সমস্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত নির্বাচনের প্রধান আলোচ্য বিষয়ই অভিবাসী। অস্ট্রিয়া অবশ্য তার মোট জনসংখ্যা এক শতাংশেরও বেশি আশ্রয়প্রার্থীকে এরই মধ্যে অভিবাসী হিসেবে গ্রহণ করেছে। কিক যে আশ্রয়প্রার্থীদের জাহাজেই রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তা প্রকৃতপক্ষে অপর একটি প্রস্তাবের বিকল্প হিসেবে উত্থাপন করেছেন তিনি। ‘রিজিওনাল ডিসেএমবারকেশন প্ল্যাটফরমস’ নামের ওই পরিকল্পনার প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল, অভিবাসনের জন্য যারা আসবে তাদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভাগ করে দেওয়া হবে। রয়টার্স লিখেছে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

ব্যাকগ্রাউন্ড চেক না হওয়া পর্যন্ত অভিবাসীদের উদ্ধারকারী জাহাজেই আটকে রাখার বিষয়ে কিক বলেছেন, এই আটকে রাখার বিষয়টি হয়তো কয়েক দিনের জন্য হবে। ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের সময়টুকু তারা সেখানে থাকবে। চেকিংয়ের পর যদি দেখা যায়, অভিবাসনের বিষয়ে তাদের দাবি আমলযোগ্য নয়, তখন তাদের দেশে ফেরত পাঠনোর ব্যবস্থা করা হবে।

জাহাজে আটকে রাখার বিষয়ে প্রাসঙ্গিক একটি ঘটনার উল্লেখ করেছে রয়টার্স। আদালত সালভিনি মাত্তেওর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর রায় দিয়েছে। ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধারকৃত শতাধিক আশ্রয়প্রার্থীকে কোস্টগার্ডের জাহাজ থেকে বন্দরে নামতে না দেওয়ার আদেশকে আদালত বেআইনি আটকাদেশ আখ্যা দিয়েছে।

"