রয়টার্স সাংবাদিকদের কারাদন্ড নিয়ে সু চির সাফাইয়ে ক্ষুব্ধ হ্যালি

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে কারাদন্ড প্রদানের পক্ষে সাফাই গাওয়ায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মার্কিন দূত নিকি হ্যালি। বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক টুইটার পোস্টে হ্যালি বলেছেন, সু চির বক্তব্যটিকে তার কাছে ‘অবিশ্বাস্য’ মনে হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা গেছে।

গত বছর রাখাইনে সেনা অভিযানের সময় রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যার তথ্য সংগ্রহের সময় আটক রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গত ৩ সেপ্টেম্বর সাত বছর করে কারাদন্ড ঘোষণা করে মিয়ানমারের আদালত। রয়টার্সের দুই সাংবাদিকদের কারাদন্ড দেওয়ার সমালোচনা করে তাদের মুক্তি দাবি করেছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। তবে বৃহস্পতিবার হ্যানয়ে অর্থনেতিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে রয়টার্স সাংবাদিকদের কারাদন্ডের পক্ষে সাফাই গান শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি। তাদের কারাদন্ড দেওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সু চি বলেন, এই মামলা আইনের শাসনকে সমুন্নত করেছে। সমালোচকদের অনেকেই রায় পড়েননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বলেন, ‘সাংবাদিক হওয়ার কারণে তাদেরকে কারাদন্ড দেওয়া হয়নি, গোপনীয়তা আইন ভঙ্গ করায় আদালত তাদেরকে কারাদন্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’

 

রয়টার্স সাংবাদিকদের কারাদন্ডের পক্ষে সু চির সাফাইয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মার্কিন দূত নিকি হ্যালি। বৃহস্পতিবার টুইটার পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘প্রথমে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। আর এখন জাতিগত নিধন নিয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী দুই রয়টার্স সাংবাদিকের কারাদন্ডকে যৌক্তিক দাবি করা হচ্ছে। অবিশ্বাস্য।’ পরে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হিথার নোয়ার্ট বলেন, সুচির অনেক মন্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমত রয়েছে। তিনি বলেন, এ রায় মিয়ানমারে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। রয়টার্স সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন নোয়ার্ট।

গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে। একে গণহত্যার শামিল বলেছে জাতিসংঘ।

রাখাইনের ইন দিন গ্রামে দশ রোহিঙ্গাকে হত্যার ঘটনা তদন্ত করার সময়ে আটক হন রয়টার্সের দুই সাংবাদিক। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাদের সাত বছর করে দন্ড দেয় মিয়ানমারের আদালত। তবে আদালতে শুনানির সময়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা তার দেওয়া সাক্ষ্যে বলেছিলেন,ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশে কিছু নথি হাতে ধরিয়ে দিয়ে আটক করা হয়েছিল ওই সাংবাদিকদের। পরে বৈরী সাক্ষী ঘোষণা করে তাকেও কারাদন্ড দেয় মিয়ানমার আদালত।

"