সৌদির কাছে আয়রন ডোম বিক্রির খবর অস্বীকার ইসরায়েলের

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সৌদি আরবের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা (আয়রন ডোম) বিক্রির খবর অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় খবরটি নাকচ করে দিয়েছে। এর আগে আমিরাতি সংবাদমাধ্যম আল খালিজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সৌদি আরব ইসরায়েলের কাছ থেকে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা কিনেছে। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে এখনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরব দেশগুলোর মধ্যে শুধু জর্ডান ও মিসর ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের নাটকীয় উন্নতির খবর এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে। মার্কিন ইহুদিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ইসরায়েলি নাগরিকদের অধিকারের ওপর জোর দেন। ২০১৮ সালেই প্রথমবারের মতো ভারত-ইসরায়েল বিমান চলাচলে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তে ৭০ বছরের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে প্রথমবারের মতো দেশটির আকাশসীমা ব্যবহার করে ইসরায়েলমুখী বিমান চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়। মার্কিন ইহুদিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ইসরায়েলি নাগরিকদের অধিকারের ওপর জোর দেন।

সম্প্রতি কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে আল খালিজ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, সৌদি আরব ইসরায়েলের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার মূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা কিনেছে। একে দুই দেশের মধ্যকার উষ্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমটি।

তবে সৌদি আরবের ক্রয়কৃত ব্যাটারিরর সংখ্যা কতটি এবং তা কিনতে ঠিক কী পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, ডিসেম্বরে এ লেনদেন অনুষ্ঠিত হবে এবং সৌদি আরবের ইয়েমেন সংলগ্ন সীমান্তে ব্যাটারিগুলো মোতায়েন করা হবে।

প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়, ইসরায়েল শুরুতে সৌদি আরবের কাছে আয়রন ডোম বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে দেশটি অবস্থান বদল করে। কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সৌদি আরব ক্রয়কৃত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার কার্যকারিতা দেখার পর আরো কিছু ব্যাটারি কিনতে পারে।

ওয়াইনেটের খবরকে উদ্ধৃত করে জেরুজালেম পোস্ট বলছে, বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আল খালিজে প্রকাশিত খবরটিকে নাকচ করে দিয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়ে গুঞ্জন উঠেছিল তিনি গোপনে ইসরায়েল সফর করেছেন। পরে অবশ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছিল। তবে তখন লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আখবার দাবি করেছিল,ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরব একটি রূপরেখা তৈরি করেছে। সেই রূপরেখা সম্বলিত চিঠিটি যুবরাজ এবং ডি ফ্যাক্টো বাদশাহ মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে পাঠিয়েছিলেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবেইর। এ বছরের শুরুতে সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম বাসলার জেইটুং-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সম্পর্ক না থাকলেও সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে গোপন সহযোগিতা সম্পর্ক রয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা চলছে বলেও পত্রিকাটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

"