আইসিসির কৌঁসুলিদের বিচারের হুমকি দিল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রোহিঙ্গা নির্যাতনের জন্য মিয়ানমার এবং আফগানিস্তানে ‘যুদ্ধাপরাধের জন্য’ যুক্তরাষ্ট্রের বিচারের কথা বলেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি। এবার আইসিসির কৌঁসুলিদেরই বিচারের হুমকি দিলো যুক্তরাষ্ট্র। রোহিঙ্গা বিতাড়ন নিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে চেয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি ফাতু বেনসুদা। গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও তদন্ত করার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন উলটো আইসিসির কৌঁসুলিদেরই বিচার করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের নাগরিক ও মিত্রদের এই অবৈধ আদালতের অন্যায় বিচার থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র।’

উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে নিয়োজিত মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সদস্যরা তাদের হাতে আটক বন্দিদের ওপর যে নির্যাতন চালিয়েছেন, তা যুদ্ধাপরাধ কিনা, সেটি তদন্ত করতে চেয়েছেন আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি বেনসুদা। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে খুঁটিনাটি পরীক্ষা’ করে তার মনে হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন বলেন, আইসিসি যদি বিচার শুরুর চেষ্টা করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির আইনজীবীদের বিরুদ্ধে লাগবে। ‘আমরা তাদের বিচারক ও আইনজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করব। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থায় তাদের বিচার করব। আমেরিকানদের বিরুদ্ধে আইসিসির বিচার প্রক্রিয়ায় যে কোম্পানি ও দেশ সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ সোমবার ওয়াশিংটনে বলেন তিনি। আট সন্তান নিয়ে এক ঘরে গাদাগাদি করে থাকেন জোহার ও উম্মে কুলসুমা দম্পতি। তাদের দুই মেয়ে বড় হয়েছে। আর সবার ছোটটার বয়স দুই বছর। রাখাইনে কৃষি কাজ করতেন জোহার। এখন কাজ নেই, সাহায্যে চলছে তাদের জীবন। আইসিসির কাজে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে না বলেও জানান জন বোল্টন। তার মন্তব্যের সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। ‘অ্যামেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন’ বা এসিএলইউ এক বিবৃতিতে বোল্টনের হুমকিকে ‘বিভ্রান্তকর’ ও ‘ক্ষতিকর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের চেয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে বলে মনে করে এসিএলইউ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির কারণে যুদ্ধাপরাধী ও কর্তৃত্ববাদী শাসকরা আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা এড়ানোর উৎসাহ পাবে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, আইসিসির তদন্তকে বাধা দেয়ার চেষ্টার কারণে মনে হবে যে, মার্কিন প্রশাসন আসলে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা ব্যক্তিদের নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রথম আইসিসির রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী হলেও পরে সমর্থন সরিয়ে নেয়। অবশ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মাঝেমধ্যে আইসিসির কাজে সহযোগিতা করেছেন। তবে জর্জ ডাব্লিউ বুশ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময় আইসিসির বিরুদ্ধে ছিলেন।

"