আগামী ৫০ বছর ক্ষমতায় থাকতে চায় বিজেপি

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি ২০১৯ সালের আসন্ন নির্বাচনে আবারও জয়লাভ করবে বলে দাবি করেছেন দলটির প্রধান অমিত শাহ। দুই দিনব্যাপী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তার দল আগামী ৫০ বছর ক্ষমতায় থাকবে। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কর্মীদের ভোট প্রতিটি বুথকে কেন্দ্র করে দলকে সংগঠিত করতে কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে ওই বৈঠকে বিরোধী দলের ওপর নজর রাখতে কর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। ভারতের সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে বরাবরের মতো বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য রেখেছেন অমিত শাহ। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে সর্বশেষ ভারতের ক্ষমতায় আসে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি। পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে আগামী বছর দেশটিতে আবারও সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও আসামের নাগরিক তালিকাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সমালোচনার মুখে রয়েছে দলটি। এমন বাস্তবতায় সোমবার দলের নির্বাহী কমিটির দুই দিনের বৈঠক শেষ হয়েছে।

বৈঠক শেষে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কর্মীদের বলেছেন আমাদের অবশ্যই প্রতিটি বুথকে কেন্দ্র করে দলকে সংগঠিত করতে হবে। প্রতিটি বুথেই জয় চাই আমাদের। তিনি বলেন, যারা সরকারে ব্যর্থ তারা বিরোধী দলেও ব্যর্থ। আমাদের ৪৮ মাসের কর্মদক্ষতা কংগ্রেসের ৪৮ বছরের কর্মদক্ষতা দিয়ে বিচার করা হবে। বিজেপি প্রেসিডেন্ট অমিত শাহকে উদ্ধৃত করে রবি শঙ্কর বলেন, ২০১৯ সালের নির্বাচনে আমরা জিতেছি আর আগামী ৫০ বছরে কেউ আমাদের ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না। বিজেপির দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত বলে দাবি করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভাদেকার বিরোধী দল কংগ্রেসের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দলটির নেতা, নীতি বা কোনো কৌশল নেই। তিনি দাবি করেন চার বছর ক্ষমতায় থাকার পরও প্রধানমন্ত্রী মোদির সমর্থন ৭০ শতাংশের ওপর। তিনি বলেন, মোদির দূরদৃষ্টি, আবেগ আর কল্পনা শক্তি রয়েছে। প্রকাশ জাভাদেকার বলেন, জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখায় মোদির সমর্থন ৭০ শতাংশের ওপর। এ কারণে ২০১৯ সালের নির্বাচনে সরকারের বিজয় নিশ্চিত। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকারের মেয়াদে মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ১০ শতাংশের বেশি ছিল এখন তা পাঁচ শতাংশেরও কম।

প্রায় এক বছর পর বিজেপির জাতীয় নির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত হলো। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ ও ছত্তিশগড় রাজ্যে নির্বাচনে লড়তে হবে দলটিকে। এছাড়া আগামী বছরে রয়েছে সাধারণ নির্বাচন। হয়তো একই সময়ে আরেক রাজ্য তেলেঙ্গানাতেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রোববার বৈঠকের উদ্বোধনী ভাষণে বিজেপি প্রধান অমিত শাহ অভিযোগ করেন বিরোধীরা ‘আরবান নক্সালদের’ অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার পরিকল্পনাকারীদেরও সমর্থন দিচ্ছে তারা।

ওই বৈঠকে ২০২২ সাল নাগাদ নতুন ভারত তৈরি করতে দলের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে একটি রাজনৈতিক প্রস্তাবনা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। বিজেপি বলছে, ২০১৯ সালে তাদের পরাজিত করা বিরোধীদের দিবাস্বপ্ন।

১৯৮০ সালের পর প্রথমবারের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়িকে ছাড়া অনুষ্ঠিত হলো বিজেপির জাতীয় নির্বাহী সভা। গত মাসে মৃত্যুবরণ করা বাজপেয়ির স্মরণে ধারাবাহিক কর্মসূচির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দলটি।

 

"