চীনের দাবির বিরুদ্ধে ছোট্ট পালাউয়ের ‘না’

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর রাষ্ট্র চীনের দাবির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে ছোট দ্বীপপুঞ্জ পালাউ। চীনের দাবি মোতাবেক তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বাদ দিয়ে চীনের প্রতি কূটনৈতিক আনুগত্য স্বীকার করতে রাজি হচ্ছে না দেশটি। চীনের দাবি না মানায় সংকটে পড়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ২০ হাজার বাসিন্দার ছোট্ট পালাউ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, চীনের সঙ্গে দ্বিমতের জেরে দেশটির পর্যটন খাতে ধস নেমেছে। পালাউয়ের মোট দেশজ উৎপাদনের ৪২.৩ শতাংশই আসে পর্যটন খাত থেকে। তাইওয়ানের প্রতি থাকা স্বীকৃতি প্রত্যাহার করতে রাজি না হওয়ায় ২০১৭ সালের নভেম্বরে চীন সরকার ট্যুর অপারেটরদের পালাউতে ট্যুর প্যাকেজ অফার করা থেকে বিরত থাকতে বলেছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের পড়তে হবে জরিমানার মুখে।

বিশ্বের মাত্র ১৭টি দেশের একটি পালাউ, যারা তাইওয়ানের বদলে চীনের প্রতি কূটনৈতিক আনুগত্য ঘোষণার দাবি উপেক্ষা করেছে। দেশটির একটি সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ওনগারাঙ কাম্বেস কেসোলি মন্তব্য করেছেন, ‘চীন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টকে দুর্বল করতে চায়। আর সেজন্যই এ ঘটনায় পালাউকে জড়ানো হয়েছে।’ চীনের চাপের মুখে ক্রমেই তাইওয়ানের এতদিনের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো অবস্থান বদলাতে বাধ্য হচ্ছে।

তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলো স্বীকৃতি প্রত্যাহার করে না নেওয়া পর্যন্ত চাপ দিয়ে যাচ্ছে চীন। যারা তাতেও রাজি হচ্ছে না তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে দেশটি। গত মাসে এল সালভাদর তাইওয়ানের প্রতি থাকা স্বীকৃতি প্রত্যাহার করে নিয়েছে চীনের চাপে। আর এ বছরের শুরুর দিকে চীনের পক্ষে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে বুরকিনা ফাসো এবং ডোমিনিকান রিপাবলিক।

তবে সমালোচকদের কেউ কেউ বলেছেন, পালাউ আগে থেকেই একরকম নিষিদ্ধ ছিল চীনের পর্যটকদের জন্য। বর্তমানে সেটা প্রকাশ্যে এলো। গবেষণা সংস্থা স্ট্র্যাটফোরের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক গবেষক ইভান রিজ মন্তব্য করেছেন, কাক্সিক্ষত আচরণ নিশ্চিত করার জন্য চীন এমন নিষেধাজ্ঞা অনেক আগে থেকেই একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়ার নাম ‘অ্যাপ্রুভড ডেসটিনেশন স্ট্যাটাস’ (এডিএস)। চীনের এই নিষেধাজ্ঞার ফল দেখা গেছে খুব দ্রুতই। আগস্ট মাসের শেষে চীন থেকে পালাউয়ে বিমান পরিচালনাকারী একটি প্রতিষ্ঠান ওই রুটে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ চীন থেকে পালাউয়ে যাওয়ার মতো পর্যটকের সংখ্যা হু হু করে কমে গেছে। চীনের একজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, চীন নাকি তাদের দেশে ইন্টারনেটেও পালাউ সংক্রান্ত সার্চের ফল নিষিদ্ধ করেছে।

চীনের এমন নিষেধাজ্ঞার উদাহরণ আগেও দেখা গেছে। মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়ন করায় শীতকালীন অলিম্পিক চলাকালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল চীন। এর ফলে তখন ট্যুর প্যাকেজের আওতায় চীনাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত উদ্যোগে দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাওয়ার সুযোগ ছিল।

কিন্তু পালাউ এত শক্তি পেল কোথা থেকে? ১৯৯৪ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার আগ পর্যন্ত পালাউ মার্কিন প্রশাসনের অধীনে ছিল। এখন পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ২০৪৪ সাল পর্যন্ত পালাউয়ের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। পালাউয়ের অন্তত ৫০০ নাগরিক মার্কি সেনাবাহিনীতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কর্মরত। জাতিসংঘে বিভিন্ন বিষয়ে ভোটাভুটির ক্ষেত্রেও পালাউকে বেশিরভাগ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ অবলম্বন করতে দেখা যায়।

 

"