ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছুরিকাহত

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় ডানপন্থি এক প্রার্থীকে তার কর্মী সমর্থকদের ভিড়ের মধ্যেই ছুরি মেরে আহত করা হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, কট্টর ডানপন্থি দল সোশাল লিবারেল পার্টির নেতা জাইর বোলসোনারো বর্ণবাদী ও বিতর্কিত নানা বক্তব্যের জন্য সমালোচিত হলেও সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে তার অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার ব্রাজিলের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মিনাস জেরাইসে ভোটের প্রচারের সময় বোলসোনারো হামলার শিকার হন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বোলসোনারোর পেটের ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তিনি সেরে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী মাসে ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। দুর্নীতির অভিযোগে কারাদ- পাওয়া ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভার প্রার্থী হওয়ার পথ আটকে দিয়েছে আদালত। লুলা আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। শেষ পর্যন্ত যদি লুলা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন তবে বোলসোনারোই দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হবে বলে জনমত জরিপগুলোতে আভাস পাওয়া গেছে।

জুইজ দে ফোর শহরে মিছিলের মধ্যে বোলসোনারোর উপর হামলার পুরো ঘটনা ভিডিও ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ছুরিকাঘাতের পরপর সমর্থকরা বোলসোনারোকে কাঁধে তুলে নিয়ে গাড়ির দিকে ছুটছেন। হামলার পরপর টুইটারে এক বার্তায় তার ছেলে ফ্লাভিও লেখেন, তার ক্ষত ‘অতটা গভীর নয়’। কিন্তু দুই ঘণ্টা পর অন্য এক টুইটে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমরা যা ভেবেছিলাম ক্ষত তার চেয়ে গুরুতর ছিল। হাসপাতালে আনার পথে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন তার রক্তচাপ এত কম ছিল যে তিনি প্রায় মারা যাচ্ছিলেন। এখন তার অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল মনে হচ্ছে, দয়া করে প্রার্থনা করুন।’

দুই ঘণ্টার অস্ত্রপচারের পর বোলসোনারোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তাকে অন্তত সাত থেকে ১০ দিন হাসপাতালে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। হামলাকারী সন্দেহে আদেলিও ওবিসপো দে অলিভেইরা (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দেখে পাগল মনে হচ্ছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান কর্মকর্তারা। গ্রেপ্তারের আগে বোলসোনারোর সমর্থকরা তাকে প্রচ- মারধর করেছে। বোলসোনারোর ওপর হামলার ঘটনায় ব্রাজিলের অন্যান্য দল থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে। লুলার ওয়ার্কাস পার্টির নেতা ফার্নান্দো হাদ্দাদ এ হামলাকে ‘উদ্ভট এবং দুঃখজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

আদালতের আদেশে লুলা শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারলে ওয়ার্কাস পার্টি থেকে হাদ্দাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারেন। রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় প্রেসিডেন্ট মিচেল তেমের বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের হামলা অগ্রহণযোগ্য। আশা করি বোলসোনারো দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফ বলে, এ হামলায় জড়িতদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করে এমন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যা মানুষের সামনে উদাহরণ হয়ে থাকবে। যাতে আর কোনো প্রার্থীর ওপর হামলা না হয়।

কে এই বোলসোনারো? সাবেক সেনা কর্মকর্তা বোলসোনারকে তার সমর্থকরা অত্যন্ত শক্তিশালী নেতা হিসেবে দেখেন, যিনি দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ৬৩ বছরের এই নেতার কোটি কোটি অনুসারী আছে। সেনাসদস্যদের অধিকার সুরক্ষায় প্রত্যয় নিয়ে ১৯৮০ সালে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। তখন ব্রাজিলে সবেমাত্র গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ১৯৮৯ সালে দেশটিতে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। কট্টোর ডানপন্থি বোলসোনারো বিভিন্ন বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য অতীতে কয়েকবার দারুণ সমালোচিত হয়েছেন। তাকে অনেকে ‘ব্রাজিলের ট্রাম্প’ বলেন। ২০১১ সালে সমকামের বিরুদ্ধে তিনি প্লেবয় ম্যাগাজিনকে বলেছিলেন, তিনি ‘কিছুতেই একজন সমকামী ছেলেকে মেনে নিতে পারবেন না’। সমকামী ছেলে থাকার চেয়ে বরং সে ‘দুর্ঘটনায় মারা গেছে’ দেখতে চান তিনি।

২০১৫ সালে একটি পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে তিনি কংগ্রেস সদস্য মারিয়া দ্য রোজারিওকে ‘এতই কুৎসিত দেখতে যে তাকে কেউ ধর্ষণও করবে না’ মন্তব্য করে জরিমানার মুখে পড়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ব্রাজিলিয়ানদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য তদন্ত চলছে।

"