জাপানে ভূমিকম্প

নিখোঁজদের নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাপানের হোক্কাইদো দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিখোঁজদের সন্ধানে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। সুপার টাইফুন জেবির আঘাতে তছনছ হওয়ার দুইদিনের মাথায় হওয়া এ ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬-তে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে আঘাত হানা ওই ভূমিকম্পের পর থেকেই হাজার হাজার লোক আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এখনো অন্তত কয়েক ডজনের খোঁজ না মেলায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট ভূমিধসের ফলে নিখোঁজদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা কর্তৃপক্ষের।

হোক্কাইদোর প্রায় ১৬ লাখ বাসিন্দা এখনও বিদ্যুৎহীন। পশ্চিম উপকূলে শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হানার কয়েকদিনের মাথায় দেখা দেওয়া এ দ্বিতীয় এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে গ্রামগুলো তার মধ্যে আতসুমাও আছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। ভূমিধসের পর এখানকার সড়ক ও বাড়িঘরগুলোও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ‘অনেকেই মাটির নিচে চাপা পড়া আছেন বলে শুনেছি; আমরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি, যদিও তাদের উদ্ধার করাটা কঠিন হয়ে পড়ছে’ জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-কে এমনটাই বলেছেন এক উদ্ধারকর্মী। আতসুমার এক বাসিন্দা জানান, ভূমিধসটি ছিল ভীষণ ভয়ানক। ‘পুরোটা পথ ধরে মাটি নেমে এসেছিল, আমি ভেবেছিলাম আমি মারা পড়ছি। ভেবেছিলাম আমার বাড়িও ধ্বসে পড়ছে’ বলেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ভূমিকম্পের পর ১৬ জনের মৃত্যু ও অনেকের আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। অন্তত ২৬ জন এখনো নিখোঁজ আছে বলেও জানান তিনি। ‘ভয়ের কাল রাত পাড়ি দেওয়া মানুষদের সহানুভূতি দেখান, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনে যা করার দরকার করুন’ শুক্রবার মন্ত্রিসভার জরুরি এক সভায় মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে এমনটাই বলেন আবে। প্রধানমন্ত্রী বললেও হোক্কাইদোর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু হতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সামনের বেশ কদিন আবহাওয়া পরিস্থিতি খারাপ যেতে পারে জানিয়ে জনগণকে এজন্য সতর্ক ও প্রস্তুত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের পর শুক্রবার থেকে হোক্কাইদোর মূল বিমানবন্দরের কাজ ফের শুরু হয়েছে। রোববারের আগেই ট্রেন যোগাযোগও চালু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছয় দশমিক ৭ মাত্রার এ কম্পন দ্বীপটির বেশ কয়েকটি কারখানার কার্যক্রমও বন্ধ করে দিয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত টয়োটার কারখানা বন্ধ থাকবে বলে গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

"