বিক্ষোভে উত্তাল ইরাকের বসরায় সংঘর্ষে নিহত ১০

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরাকের দক্ষিণের তেল নগরী বসরায় টানা চতুর্থ দিনের মত হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে। গত সোমবার থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ১০ বিক্ষোভকারী নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীও আহত হয়েছেন বলে জানান দেশটির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। তাদের বেশির ভাগই ‘হ্যান্ডগ্রেনেড’ বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন।

শিয়া অধ্যুষিত বসরার দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা ভেঙে পড়া অবকাঠামো, তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর গ্রহণ করা পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দার নগরী বসরার লোকজন জানিয়েছেন, সাপ্লাইয়ের পানিতে লবণ চুইয়ে পানি পানের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে; যে কারণে গ্রীষ্মের এই গরমের মধ্যে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এই পানি পানে কয়েকশত লোক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে জানিয়ে সমস্যা সমাধানে সোমবার থেকে তারা সহিংস বিক্ষোভ শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভকারীরা প্রাদেশিক সরকারের প্রধান কার্যালয়ে ভাংচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেয়। এদিন তারা আরও কয়েকটি সরকারি ভবনে ভাংচুর চালায় এবং নগরীর প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করে। তারা রাষ্ট্র পরিচালিত ‘ইরাকিয়া টিভি’ ভবনেও হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

প্রভাবশালী শিয়া মিলিশিয়া দল আসাইব আহল আল-হকের কার্যালয়েও আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা। এদিন সংঘর্ষে তিন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে জানান স্থানীয় কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নগরীতে বিপুল সংখ্যায় নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তারা দিনভর নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ভবনে পাহারা দিচ্ছে। কিন্তু রাতে তাদের খুব একটা দেখা যাচ্ছে না এবং বিক্ষোভকারীদের থামাতে তাদের তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও দেখা যাচ্ছে না।

সরকারি ভবনে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু হলে স্থানীয় প্রশাসন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে নগরজুড়ে অনির্দিষ্ট কালের কারফিউ জারি করেছে। বসরা থেকে ৩৭ মাইল দূরে দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর ‘উম কাসর’ এর সব কার্যক্রমও বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ আছে। বন্দর কর্মকর্তারা বলেন, বন্দরে আসার প্রধান সব সড়ক বিক্ষোভকারীরা অবরোধ করায় তারা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই বন্দর দিয়েই খাদ্যশস্য এবং জীবনধারণে প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ পণ্য আমদানি করা হয়। যদিও গভীর সমুদ্রে একটি টার্মিনাল দিয়ে এখনও তেল রাপ্তানি চলছে। ইরাকের রাজস্ব আয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এই বন্দর থেকে আসে।

"