কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দিতে মাঠে নামবেন প্রিয়াঙ্কা?

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কংগ্রেস সুপ্রিমো সোনিয়া গান্ধীর ছেলে রাহুলের হাতে দলের ব্যাটন তুলে দেওয়ার পরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় আবার জেগে উঠেছে দলে সোনিয়া কন্যা প্রিয়াঙ্কা ভদ্রার ভবিষ্যৎ ভূমিকার প্রশ্ন। তবে ধোঁয়াশা আগে যেমন ছিল এখনো আছে। স্বাস্থ্যের কারণে সোনিয়া গান্ধী বর্তমানে দলের কাজকর্ম ঠিকমতো দেখাশোনা করতে অপারগ। ২০১৯ সালের সংসদীয় নির্বাচনে সোনিয়া গান্ধী আদৌ দাঁড়াবেন কিনা তা নিয়েই চলছে জল্পনা। রাজনৈতিক অঙ্গনে পা রাখার পর থেকেই কংগ্রেসের অন্দরমহলের ধারণা, দলের সাংগঠনিক সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রিয়াঙ্কা মায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র উত্তর প্রদেশের রায়বেরিলি কেন্দ্রের সব থেকে উপযুক্ত প্রার্থী। কংগ্রেস থেকেও বলা হয়েছিল সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে কংগ্রেসের আঁতাত গড়ে তুলতে প্রিয়াঙ্কার অগ্রণী ভূমিকা অনস্বীকার্য। দ্বিতীয়ত, ১৯৯৯ সাল থেকে উত্তর প্রদেশের আমেথি এবং রায়বেরিলি সংসদীয় আসন দুইটি ধরে রাখতে প্রিয়াঙ্কার ভূমিকা সন্দেহাতীত। সোনিয়া গান্ধী ১৯৯৯ সালে প্রথমে ভোটে জিতেছিলেন আমেথি থেকে। ২০০৪ সালে আমেথি সংসদীয় আসনটি ছেলে রাহুলের হাতে দিয়ে সোনিয়া দাঁড়ালেন রায়বেরিলি কেন্দ্র থেকে। দুইটি আসনই তখন থেকে গান্ধী পরিবারের ঝুলিতে। তার আগে অবশ্য দাঁড়িয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। সেদিক থেকে ঠাকুরমা এবং মায়ের কেন্দ্র হিসেবে রায়বেরিলি আসনটি প্রিয়াঙ্কার জন্য উপযুক্ত। রাহুলকে দলীয় কাজকর্মে সাহায্য করছেন প্রিয়াঙ্কা, যেগুলো আগে সামলাতেন সোনিয়া নিজে।

২০১৪ সালের ভোটে কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই স্লোগান উঠেছে দলের হাল ধরুক প্রিয়াঙ্কা। পোস্টারও পড়েছে এখানে সেখানে। প্রিয়াঙ্কা আসুক, দেশ বাঁচুক। রাহুলের ওপর অনেকেরই তখন আস্থা ছিল না। রাহুল স্বভাবে ছিলেন অšত্মর্মুখী। অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কার মধ্যে সবার সঙ্গে মেলামেশা করার একটা স্বাভাবিক প্রবণতা আছে, যেটা দলের পক্ষে ইতিবাচক। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা চাননি পরিবারে এই নিয়ে ফাটল ধরুক। তাই তাতে সাড়া দেননি তিনি। পড়েছিলেন আমেথি এবং রায়বেরিলি আসন দুইটি আঁকড়ে। বরং চেয়ে এসেছেন সোনিয়া, রাহুল এবং নিজের পারিবারিক বন্ধনে দলকে মজবুত করতে। দলে প্রিয়াঙ্কার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। আগেও যেমন ছিল এখনো আছে। সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটি এআইসিসির জেনারেল সেক্রেটারি শাকিল আহমেদের কথায়, প্রিয়াঙ্কা নিজেই ঠিক করবেন আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন কিনা। কাজেই দ্বন্দ্বটা রয়েই গেছে।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমূল্য গাঙ্গুলির কাছে ডয়চে ভেলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কংগ্রেসের দুর্দিন কেটে গেছে এখন অবস্থাটা আগের চেয়ে ভালো। প্রিয়াঙ্কার আসার কোনো কারণ নেই। প্রিয়াঙ্কা ফিরে আসুক স্লোগান সম্পর্কে বলা যায়, দলের মধ্যে অনেকে প্রিয়াঙ্কার সমর্থক। প্রিয়াঙ্কা ভোটে দাঁড়ালেও দাঁড়াতে পারেন। তবে রাহুল শীর্ষ নেতা হয়েই থাকবেন। রাহুলের পাশে দাঁড়িয়ে গান্ধী পরিবারের কেন্দ্রগুলো প্রিয়াঙ্কা যেমন দেখাশোনা করছিলেন তা তেমনি চলবে। সামনেই চারটি রাজ্যে বিধানসভা ভোট। তাতে কংগ্রেস ভালো ফল করবে বলে মনে হয়। তারপরই ছবিটা পরিষ্কার হবে। আগে রাহুলের নেতৃত্ব নিয়ে যত সন্দেহ ছিল এখন আর তা নেই। রাহুল আগের চেয়ে এখন অনেক পরিণত। মিডিয়াতেও তা বলছে। আর প্রিয়াঙ্কার স্বামী রবার্ট ভদ্রার বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগ তো অনেক পুরনো। এখনো পর্যন্ততা প্রমাণিত হয়নি, ডয়চে ভেলেকে বললেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমূল্য গাঙ্গুলি। ‘প্রিয়াঙ্কার স্বামী রবার্ট ভদ্রার বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগ পুরনো যা প্রমাণিত হয়নি’।

 

অনেক দিন ধরেই সোনিয়া গান্ধীর জামাই রবার্ট ভদ্রা কংগ্রেস দল থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলতেন। সম্প্রতি দিল্লি লাগোয়া হরিয়ানা রাজ্যে গুরুগ্রামে জমি বেচাকেনায় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত জনৈক সুরেন্দ্র শর্মার অভিযোগের ভিত্তিতে হরিয়ানা পুলিস রবার্ট ভদ্রা এবং রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র সিং হুডার বিরুদ্ধে এফআইআর করার পর কংগ্রেস আর চুপ কোরে থাকতে না পেরে রবার্টের সমর্থনে এগিয়ে আসে।

দলের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ফরাসি যুদ্ধ বিমান রাফাল থেকে বিমুদ্রাকরণ, পেট্রল-ডিজেলে ১২ লাখ কোটি টাকা লুট, বছরে দুই কোটি কর্মসংস্থানে ব্যর্থতা ঢাকতে মোদি সরকার জনগণের দৃষ্টি ঘোরাতে চাচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হুডার মšত্মব্য, নির্বাচনী জয়ের সম্ভাবনা যত ¤¯œান হচ্ছে, বিজেপি সরকার তত বেশি কোরে অযৌক্তিক মামলা খাঁড়া করছে। জমি দুর্নীতি সংক্রাšত্ম তদšত্মকারী ধিংড়া কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ না করেই এফআইআর হয়েছে, এ আর নতুন কি? রবার্ট ভদ্রার নিজের মšত্মব্য, ভোটের মৌসুমে অন্যদিকে দৃষ্টি ঘোরানো ছাড়া আর কি? তদšেত্মর মুখোমুখি হতে আমি ভয় পাই না। জমি দুর্নীতি সম্পর্কে কংগ্রসের বক্তব্য, ২০০৮ সালে গুরূগ্রামের বাণিজ্যিক এলাকায় যাবতীয় ট্যাক্স দিয়ে সাড়ে ৩ একর জমি কিনেছিলেন ভদ্রার স্কাইলাইট কোম্পানি। পাঁচ বছর পর যাবতীয় কর মিটিয়ে সেটি বিক্রি করা হয় রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ডিএলএফকে। গোটা লেনদেনে কোথায় দুর্নীতি ? এই ধরনের জমি বেচাকেনা বহু হয়েছে। শুধু রবার্টের সাড়ে ৩ একরেই শুধু দুর্নীতি খুঁজে পাচ্ছে মোদি সরকার। নিজেকে এক সমাজকর্মী বলে দাবি কোরে সুরেন্দ্র শর্মার অভিযোগে কি ছিল? তৎকালীন কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ভূপেন্দ্র সিং হুডা। তিনি সোনিয়া গান্ধীর জামাই হিসেবে রবার্ট ভদ্রাকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন। তাতে ভদ্রার লাভ হয় প্রায় ৫ কোটি টাকা।

"