শাস্তি নয়, দুই সাংবাদিকের প্রশংসা করা উচিত

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিয়ানমারের আদালত যে রায়ে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে কারাদ- দিয়েছেন, তা বাতিল করে অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। মঙ্গলবার এক টুইটে তিনি বলেছেন, ওয়া লোন এবং কিয়াও সোও মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যার যে ঘটনা উদ্ঘাটন করেছেন, সেজন্য তাদের জেল না দিয়ে প্রশংসা করা উচিত।

শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা যে জরুরি; সে কথাও মিয়ানমার সরকারকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহের সময় গ্রেফতার রয়টার্সের ওই দুই সাংবাদিককে গত সোমবার ঔপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে সাত বছরের কারাদন্ড দেন ইয়াঙ্গুনের এক আদালত। রাখাইনের সেনা অভিযানের সময় ইনদিন গ্রামে ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে লাশ পুঁতে ফেলার একটি ঘটনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছিলেন ওই দুই সাংবাদিক।

বরাবরই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসা এই দুই সাংবাদিক মামলার বিচারের সময় আদালতকে বলেছিলেন, গত ১২ ডিসেম্বর ইয়াঙ্গুনের এক রেস্তোরাঁয় দাওয়াত দিয়ে নিয়ে দুই পুলিশ সদস্য তাদের হাতে কিছু মোড়ানো কাগজ ধরিয়ে দেন এবং তার পরপরই সেখান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পশ্চিমা কূটনীতিবিদের কেউ কেউ এবং অধিকার সংগঠনগুলো দুই সাংবাদিকের এই বিচারকে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়ায় থাকা মিয়ানমারের জন্য একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখছিলেন। সাজার রায় আসার পর থেকেই দুই সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন তারা।

দুই সাংবাদিকের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা মঙ্গলবার ইয়াঙ্গুনে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ওয়া লোন এবং কিয়াও সো নির্দোষ, তাদের মুক্তি দিয়ে স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হেলি বলেছেন, রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে জেলে পাঠানো হয়েছে সত্য বলার অপরাধে। তাদের মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র আরও সোচ্চার ভূমিকা নেবে। গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েক ডজন নিরাপত্তাচৌকিতে হামলার জবাবে সেনাবাহিনী ওই নির্মম দমন অভিযান শুরু করে। জাতিসংঘ বলছে, সেনাবাহিনীর ওই অভিযানে এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

রাখাইনে সেনাবাহিনীর ওই দমন-পীড়নের মুখে গত বছর আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেখা হচ্ছে দক্ষিণ এ অঞ্চলের সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা শরণার্থী সংকট হিসেবে।

"