ইসরায়েলি সহায়তার কথা স্বীকার করলেন দুতের্তে

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গত বছর ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের মারাউয়ি শহরের পাঁচ মাসের অবরোধ মুক্ত করতে ইসরায়েলি সহায়তার কথা প্রথমবার প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ দুতের্তে। ইসরায়েল সফররত দুতের্তে ‘সংকটপূর্ণ সময়ে সহায়তার’ জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এক সময় হিটলারের প্রশংসা করা দুতের্তের সঙ্গে এই সম্পর্কের সমালোচনা চলছে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ দুতের্তের সমালোচনামূলক সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। দেশটির বামপন্থীরা বলছেন ফিলিস্তিনে দখলদারিত্বকে সমর্থন করায় দুতের্তেকে বুকে টেনে নিয়েছেন নেতানিয়াহু।

২০১৭ সালের মে মাসে ফিলিপাইনের মারাউয়ি শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী আইএসের প্রতি অনুগত বিদ্রোহীরা। শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সেখানে জরুরি অবস্থা ও সামরিক আইন জারি করেন দুতের্তে। পাঁচ মাস ধরে অস্থিরতায় প্রাণ হারায় ১ হাজার বিদ্রোহী, সেনাসদস্য ও বেসামরিক নাগরিক। বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ে হাজার হাজার বাসিন্দা। অক্টোবরে শহরটির দখল ফিরে পায় ফিলিপাইনের সেনারা।

সোমবার প্রথমবারের মতো মারাউয়ি শহরে ইসরায়েলি সহায়তার কথা স্বীকার করেন দুতের্তে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তিনি বলেন, ‘মারাউয়িতে এখনো যুদ্ধ চলত যদি ইসরায়েলের কাছ থেকে খুবই বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সহায়তা না পাওয়া যেত’। দুতের্তে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি শুধু আপনাকে অজ¯্র ধন্যবাদ জানাতে পারি বিশেষ করে আপনি আমার দেশের প্রয়োজনে যখন খুব বেশি দরকার ছিল সেই সময়ে যে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেছেন তার জন্য। ফিলিপাইনের সাম্প্রতিক সমস্যায় যে পরিমাণ সহায়তা আপনি সম্প্রসারণ করেছেন তা যুদ্ধে জয়ী হতে খুবই জরুরি ছিল। ইসরায়েলের মধ্যে ১৯৫৭ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর এবারই প্রথম ফিলিপাইনের কোনো প্রেসিডেন্ট দেশটি সফরে গেলেন। সফরে দুই দেশ যুদ্ধ ও শান্তির সময়ের বন্ধু বলে উল্লেখ করেন দুতের্তে।

তিনি বলেন, আমরা শান্তির জন্য একই আবেগ পোষণ করি, আমরা মানুষের জন্যও একই আবেগ পোষণ করি। যারা মানুষ হত্যা ও ধ্বংস ছাড়া আর কিছু জানে না তাদের হাতে আমাদের দেশ ধ্বংস থেকে রক্ষা করতেও আমরা একই আবেগ পোষণ করি। ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহায়তা বাড়াতে আগ্রহ পোষণ করেন দুতের্তে। এর মধ্যেই ইসরায়েল থেকে তিনটি রাডার ব্যবস্থা ও ১০০টি সাঁজোয়া যান কিনেছে ফিলিপাইন। আর এখন একটি বিমান ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহী ম্যানিলা।

সোমবার দুতের্তে মেয়েকে নিয়ে জেরুজালেমে ইয়াদ ভাসেম হলোকাস্ট মেমোরিয়াল পরিদর্শন করেন। সে সময় হিটলারের নাৎসি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ থেকে ইহুদিদের বাঁচাতে ফিলিপাইনের উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন তিনি। ১৯৩৯ সালে ফিলিপাইনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল এল কুয়েজেন ইউরোপীয় ইহুদিদের জন্য ১০ হাজার ভিসা ইস্যু করেন। তবে আল জাজিরা জানিয়েছে প্রকৃতপক্ষে তখন প্রায় ১৩০০ ইহুদি দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পায়। নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে পালানো শরণার্থীদের আশ্রয়ের কথা স্মরণ করেন নেতানিয়াহু। এছাড়া ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল প্রতিষ্ঠায় এশিয়া থেকে একমাত্র দেশ হিসেবে ফিলিপাইনের ভোট দেওয়ার কথাও স্মরণ করেন তিনি। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েলি দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার পক্ষেও জাতিসংঘে ভোট দিয়েছে ফিলিপাইন।

দুতের্তে নেতানিয়াহুকে বলেন, আমরা আমাদের বন্ধুদের স্মরণ রেখেছি আর যে বন্ধুত্ব বহু বছর ধরে বিকশিত হয়েছে বিশেষ করে বিগত কয়েক বছরে। এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার যেসব দেশ ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েলের আচরণ এড়িয়ে চলে সেসব মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় আছেন নেতানিয়াহু। তবে দুতের্তের সঙ্গে তার মিত্রতা নিয়ে নিজ দেশেই সমালোচনার মুকে পড়েছেন তিনি। ২০১৬ সালে জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা দুতের্তের বিরুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে হাজার হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

ক্ষমতা গ্রহণের বছরেই তার অভিযানকে হলোকাস্ট আর নিজেকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন দুতের্তে। মাদকবিরোধী যুদ্ধের নামে হাজার হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে দুতের্তের বিরুদ্ধে। মাদকবিরোধী যুদ্ধের নামে হাজার হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে দুতের্তের বিরুদ্ধে।

দুতের্তের সফর ঘিরে এক সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ। শিরোনাম করা হয়েছে, ‘ইয়াদ ভাসেমে হিটলারের এক প্রশংসাকারী’। দেশটির বামপন্থী রাজনীতিবিদরাও দুতের্তেকে বুকে টেনে নেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বামপন্থী মেরেৎজ পার্টির প্রধান তামার জান্দবার্গ ফেসবুকে লিখেছেন, এক অবৈধ নেতা যিনি নিজ নাগরিকদের ওপর গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য প্রসিদ্ধ তাকে কেন ভালো সাজানোর চেষ্টায় আছেন নেতানিয়াহু। কারণ দুতের্তে ফিলিস্তিনের দখলদারিত্বকে সমর্থন দিতে চান।

"