সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভ

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আজ সোমবার ইয়াঙ্গুনের আদালতে মিয়ানমারে আটক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের রায় ঘোষণা করা হবে। এর আগে গত শনিবার মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনে তাদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে কয়েক শত মানুষ। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যার তথ্য সংগ্রহের সময় আটক করা ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের দোষী প্রমাণিত হলে তাদের ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদ- হতে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত শনিবার কালো কাপড় পরিহিত বিক্ষোভকারীরা আটক সাংবাদিকদের ছবি সংবলিত ব্যানার, পতাকা ও বেলুন নিয়ে মিছিলে যোগ দেয়। সে সময় তারা স্লোগান দেয়, ‘খবর জানার অধিকার, জনগণের অধিকার’।

এছাড়া কয়েকজনের বহন করা ব্যানারে লেখা ছিল ‘অবিলম্বে কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি দাও, অবিলম্বে মুক্তি দাও’। ৩২ বছর বয়সী ওয়া লোন ও ২৮ বছরের কিয়াও সোয়ে ও নামের ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শক ও সংস্থা এই সাংবাদিকদের বেকসুর খালাস দাবি করেছে।

মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব মিয়ো মিয়ান্ট মং ফোনে রয়টার্সকে বলেছেন, আপনি যে পক্ষেরই হোন না কেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনি বলতে পারেন আমাদের এটা আছে কিন্তু তারপরও অনেক কিছু রয়েছে যাতে আমাদের উন্নতি করতে হবে।

 

সরকারের মুখপাত্র জাও তাই এর আগে বলেছেন, দুই সাংবাদিকের মামলার বিষয়ে মিয়ানমারের আদালত স্বাধীন ও এই মামলা আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

 

আটক হওয়ার সময়ে ওই দুই সাংবাদিক রাখাইনের ইন দীন গ্রামে ১০ রোহিঙ্গা হত্যার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। সেনা অভিযানের মধ্যে এই রোহিঙ্গা নাগরিকদের স্থানীয় অধিবাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মিলে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়। রয়টার্স ওই ঘটনার খবর প্রকাশের পর মিয়ানমার প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা হত্যার দায়ে কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মীকে কারাদ- দেয়।

আট মাস ধরে চলা শুনানিতে ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে ও বলে আসছেন, যে দুই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তারা সেদিন দেখা করতে গিয়েছিলেন তাদের সঙ্গে আগে কখনো সাক্ষাৎ হয়নি। ইয়াঙ্গুনের একটি রেস্টুরেন্টে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর প্রথমবার দেখা করতে গেলে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের হাতে রোল করা কিছু কাগজ ধরিয়ে দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের গ্রেফতার করে চোখ বেঁধে সাদা পোশাকের পুলিশের একটি গাড়িতে তুলে নেয়।

এই বছরের এপ্রিলে পুলিশ কর্মকর্তা মোয়ে ইয়ান নাইন আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে বলেন, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা অধীনস্তদের ওই দুই সাংবাদিককে ফাঁদে ফেলতে গোপন নথি দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে অন্য পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের সাক্ষ্যে বলেছেন, নিয়মিত একটি ট্রাফিক পুলিশ চেকপোস্টে ওই দুই সাংবাদিককে তল্লাশি করা হয়। যে কর্মকর্তারা তাদের তল্লাশি করেছেন তারা জানতেন না যে তারা সাংবাদিক। ওই তল্লাশির সময়ে তাদের কাছে অজ্ঞাত উৎস থেকে পাওয়া গোপন নথি পাওয়া যায়।

"