ম্যাককেইনের শেষকৃত্যে বাংলাদেশি কন্যা

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সদ্যপ্রয়াত মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইনের শেষকৃত্যে ভাই-বোনদের সঙ্গে বাবা হারানোর কষ্ট ভাগাভাগি করেছেন তার বাংলাদেশি মেয়ে ব্রিজিত ম্যাককেইন। বেশ কয়েকটি স্থানে বাবাকে নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য রেখেছেন তারা।

ম্যাককেইনের এই সপ্তাহের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে আলোকচিত্রীরা ব্রিজিত ম্যাককেইন ও তার বোনদের বেশ কিছু আবেগঘন ছবি তোলেন। একটি ছবিতে মাথা নিচু করে থাকা ব্রিজেতকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে তার বড় ভাই জ্যাক। অ্যারিজোনার নর্থ ফিনিক্স ব্যাপটিস্ট চার্চে বাবার স্মরণে বক্তব্য রাখার পরই তাকে নিয়ে আসনে বসিয়ে দিচ্ছেন তার ভাই। সেখানে বাইবেলের তৃতীয় অধ্যায় থেকে ব্রিজিত পড়ে শোনান, সবকিছুরই নির্দিষ্ট সময় রয়েছে আর স্বর্গে প্রতিটি ঘটনারও একটি সময় রয়েছে। জন্ম দেওয়ার সময়, মৃত্যুর সময়, রোপণের সময় এমনকি গাছ উপড়ে ফেলারও সময়।

আরেকটি ছবিতে ব্রিজিতকে তার বড় বোন মেগানের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যেন কষ্ট ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। ওয়াশিংটন ডিসির ভিয়েতনাম ভেটেরানস মেমোরিয়ালে ওই ছবিটি তোলা হয়। সেখানে প্রয়াত বাবার স্মরণে তাদের মায়ের শ্রদ্ধা নিবেদনের পরই ছবিটি তোলা হয়েছিল। পরের ছবিতে মেগান ও ব্রিজিতকে একে অপরকে ধরে থাকতে দেখা যাচ্ছে। গম্ভীরভাবে দাঁড়িয়ে থাকা দুই নারীর মধ্যে মেগানকে চোখের অশ্রু মুছতে দেখা যাচ্ছে।

জন ম্যাককেইনের সাত সন্তান। এদের মধ্যে প্রথম স্ত্রী ক্যারল শেপ দুজনকে দত্তক নিয়েছিলেন এবং একজন তাদের সন্তান। শেপের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সিন্ডিকে বিয়ে করেন ম্যাককেইন। তাদের তিন সন্তান ও এক দত্তক নেওয়া সন্তান রয়েছে। সিন্ডিই বাংলাদেশ থেকে ব্রিজিতকে দত্তক নেন।

ম্যাককেইনের সন্তানরা অপেক্ষাকৃত গোপন জীবন যাপন করলেও তাদের নিয়ে অনেকেই কৌতূহল রয়েছে। আগ্রহ রয়েছে তারা কেমন জীবন যাপন করেন। তার মৃত্যুর পর নতুন করে সন্তানরা আলোচনায় এসেছেন। গত কয়েক দিন ধরে মেগান ম্যাককেইনের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ছবিতে বাবার কফিনের পাশে বসে কাঁদছিলেন মেগান। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় পর্যায়ে নজর কাড়েন ব্রিজিত। সিনেটর ম্যাককেইন তখন নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। ওই সময়ে তার বাবা জন ম্যাককেইন তার দত্তকের গল্প সবাইকে জানান।

প্রয়াত সিনেটরের স্ত্রী সিন্ডি ম্যাককেইন ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সফর করেন। ওই সময়ে তিনি ঢাকায় মাদার তেরেসা পরিচালিত একটি এতিমখানা থেকে একটি শিশুকে আমেরিকায় নিয়ে যান। ২০০৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার সময় রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে ব্রিজেত ম্যাককেইনের জীবনের গল্প এভাবেই বলেছিলেন ম্যাককেইন।

১৯৯১ সালে ব্রিজেতের যুক্তরাষ্ট্রে আসা সম্পর্কে তিনি প্রথম জানতে পারেন যখন অ্যারিজোনা বিমানবন্দরে প্রথম তার সঙ্গে দেখা হয় ও তার স্ত্রীকে তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘ও কোথায় যাচ্ছে?’ তখন সিন্ডি ম্যাককেইন জবাব দেন ‘আমাদের বাড়িতে।’

কনভেনশনে ওই গল্প বর্ণনা করে তার সহকারী ওয়েস গুলেট সেই সময়ের কথা স্মরণ করেন, ‘জনের মুখের পরিবর্তন আমার মনে আছে। সেদিন তিনি কোনো কঠিন যুদ্ধ ফেরত সিনেটর ছিলেন না। সেদিন তিনি অন্য যেকোনো নতুন বাবা হওয়া মানুষের মতো ভালোবাসায় পূর্ণ এক মানুষ ছিলেন।’

"