রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পাচ্ছে তুরস্ক

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, তুরস্ক শিগগিরই রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে পাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় এই ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে তারা। উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বালিকেসিরে নন কমিশনড কর্মকর্তাদের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে এরদোয়ান বলেন, ‘রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুরস্কের দরকার আর শিগগিরই আমরা তা পেয়ে যাব।’ মধ্যপ্রাচ্যের খবর পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট মনিটর এ খবর জানিয়েছে।

এরদোয়ান বলেন, ‘অন্যরা নিজেদের এজেন্ডা অনুযায়ী ও স্বার্থ মোতাবেক আমাদের দেশ ও এই অঞ্চলকে আকৃতি দিতে চাইলেও তুরস্ক নিজের স্বার্থ অর্জন করতে চায় আর নিজের লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুতাপ নেই।’ গত বছরের ডিসেম্বরে তুরস্ক ঘোষণা দেয়, ২০২০ সাল নাগাদ রাশিয়ার কাছ থেকে দুটি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার চুক্তিতে পৌঁছাতে পেরেছে তারা। এই বছরের এপ্রিলে দুই দেশ শিগগিরই তা হস্তান্তর করতে সম্মত হয়।

রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে এটি ব্যবহার করা হয়। ব্যালিস্টিক ও ক্রুস ক্ষেপণাস্ত্রসহ তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যভেদের আগেই নিষ্ক্রিয় করতে পারে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। গত জুনে তুরস্ক মার্কিন সিনেটে পাস হওয়া বিলে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়। ওই সময়ে বলা হয়, তুরস্ক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনছে আর তাদের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থাকলে নিরাপত্তা বিঘিœত হতে পারে। এ ছাড়া ওই সময়ে তুরস্কে আটক এক মার্কিন ধর্মযাজককে নিয়ে উত্তেজনা চলছিল।

ওই সময়ে এরদোয়ান বলেছিলেন, ‘মার্কিন যাজক অ্যান্ড্রু ব্রানসনের মামলার জেরে তুরস্কের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’ ব্রানসনের ঘটনার জেরে বর্তমানে তুরস্কের কয়েকটি পণ্যের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। তুরস্কের আদালতের আদেশে বর্তমানে গৃহবন্দি রয়েছেন ব্রানসন। ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর আগে এরদোয়ান বলেছিলেন ব্রানসনের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ফেতুল্লাহ গুলেনকে ফেরত চায় তুরস্ক। ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার ক্রীড়নক বিবেচনা করা হয় তাকে।

 

"