কুকুর বাঁচাল এক পরিবারকে

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আগে থেকে সতর্ক করে দেওয়া কুকুরের চিৎকার ভারতের কেরালার একটি পরিবারকে ভূমিধসের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ইডুক্কু জেলার কাঞ্জিকুঝি গ্রামের নিজেদের বাড়িতে মোহনান পি ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন।

রাত ৩টার দিকে কুকুর রকির চিৎকারে ঘুম থেকে উঠে একেবারে শেষ মুহূর্তে ভূমিধসের বিপদ থেকে রক্ষা মেলে বলে মোহনানের বরাত দিয়ে জানিয়েছে এনডিটিভি। কাঞ্জিকুঝির এ বাসিন্দা বলেন, গভীর রাতে রকির চিৎকার শুনেও প্রথমে তেমন গুরুত্ব দেননি তিনি। রাতের এ সময়ে কুকুররা প্রায়ই ডাকে ভেবে এড়িয়ে যেতে চাইলেও কয়েক মিনিট পরে রকির তুলনামূলক জোরে চিৎকার ও আর্তনাদ শুনে বাইরে বেরিয়ে আসেন মোহনান। তিনি বলেন, খুবই অস্বাভাবিক বেদনাদায়ক আর্তনাদ ছিল সেটি। কোনো কিছু গড়বড় হয়েছে বলে তখন আমরা বুঝতে পারি। আমি দেখতে বের হই; এর কিছু সময়ের মধ্যেই আমরা সবাই ঘর থেকে দ্রুত বের হয়ে পড়ি। কুকুরকে দেখতে এসেই মোহনান ও তার পরিবারের সদস্যরা বিপদ টের পান ও ভূমিধসে বাড়িটি ধ্বংস হওয়ার আগ মুহূর্তে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। রকি ও কেরালার ওই পরিবারটিকে পরে সরকার পরিচালিত নিকটবর্তী একটি আশ্রয় শিবিরে সরিয়ে নেওয়া হয়। ইডুক্কু জলাধারের ফুঁসে ওঠা পানি কেরালার বিভিন্ন জায়গায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন রেখে গেছে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। রাজ্যটির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, আশ্রয়শিবিরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৩৫ হাজারেরও বেশি লোককে। দুর্যোগের এ ভয়াবহতার মধ্যেও দক্ষিণাঞ্চলীয় এ রাজ্যটির বিপদে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে অন্যদের সহযোগিতার গল্প ফিরছে মানুষের মুখে মুখে। মোহনানের বাড়ির ওপরের তলায় থাকা বৃদ্ধ দম্পতি ভূমিধসের কবল থেকে বাঁচতে পারেননি। কর্তৃপক্ষের সতর্কতা জারির পর পেরিয়ার নদীর তীরে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে এক কিলোমিটার দূরের এ ভাড়া বাসায় উঠেছিলেন তারা।

 

‘বাঁধের ফটক খুলে দেওয়ায় বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন কর্মকর্তারা। যে কারণে আমরা সরে আসি ও বাসা ভাড়া নিই। কিন্তু ভূমিধসে আমার দাদা-দাদির মৃত্যু হয়েছে, ভাড়া নেওয়া বাড়িটিও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। মানুষ আমার স্ত্রী ও এক বছরের মেয়েকে উদ্ধার করেছে’ বলেন মারা যাওয়া বৃদ্ধ দম্পতির ২৪ বছর বয়সী নাতি বিবিন। পেরিয়ার নদীর তীরে থাকা বিবিনদের বাড়িটিও ধ্বংস হয়ে গেছে। কোমর সমান ধ্বংসস্তুপের মধ্যে এক বছরের মেয়েকে নিয়ে আটকে থাকা বিবিনের স্ত্রীকে পরে অন্য এক ব্যক্তি উদ্ধার করেন। দুর্যোগ আক্রান্তদের জন্য কেবল কাঞ্জিকুঝি গ্রামেই ১২টি আশ্রয়শিবির খোলা হয়েছে; এর মধ্যে একটিতেই স্থান হয়েছে প্রায় ১২৮টি পরিবারের। টানা বর্ষণ ও ভূমিধসে বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমিও নষ্ট হয়ে গেছে।

 

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই ভিজয়ন নিহত ও বাড়িঘর হারানো প্রত্যেক পরিবারের জন্য ৪ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। যারা বাড়ি ও স্বজন উভয় হারিয়েছেন তাদেরকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ লাখ রুপি করে দেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

"