অর্থনৈতিক সংকটের দিকে তুরস্ক

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের নীতির কারণে আর্থিক বাজার অস্বস্তিতে আছে। তুরস্কের আর্থিক বাজারে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিশ্চিতভাবেই উদ্বেগজনক। চলতি বছরে ডলারের বিপরীতে তুরস্কের মুদ্রা লিরার দাম পড়ে গেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। দেশটির শেয়ারবাজারের মূল্য পতন হয়েছে ১৭ শতাংশ। যদি সেটিকে ডলারের বিবেচনায় ধরা হয় তাহলে শেয়ারবাজারের দাম পড়ে গেছে ৪০ শতাংশ।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে সরকারের ঋণ গ্রহণের খরচ। গত ১০ বছর ধরে প্রতি বছর তুরস্কের মুদ্রায় সরকারের ঋণ হয়েছে ১৮ শতাংশ। তাহলে দেশটির অর্থনীতিতে কী ঘটছে?

ঋণের বিপদ : তুরস্ক আন্তর্জাতিক বাজারে যা রফতানি করে তার চেয়ে বেশি আমদানি করে। অথবা অন্যভাবে বললে বিষয়টি হচ্ছে দেশটি যা আয় করে তার চেয়ে বেশি ব্যয় করে। আমদানি এবং রফতানির মধ্যে যে ঘাটতি আছে সেটি পূরণ করার জন্য হয়তো বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন নতুবা সরকারের ঋণ গ্রহণ প্রয়োজন।

অর্থনীতির জন্য এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু তুরস্কের ঘাটতি অনেক বেশি। জাতীয় আয়ের প্রায় ৫.৪ শতাংশ ঘাটতি হয়েছে গত বছর। তুরস্ক যে বৈদেশিক ঋণ নেয় সেটির দুই ধরনের বৈশিষ্ট্য আছে যা ঝুঁকি তৈরি করে। তুরস্কের যে বিশাল অংকের বৈদেশিক ঋণের দেনা রয়েছে সেটি অল্প কিছু দিনের মধ্যে শোধ করতে হবে। এ ঋণ শোধ করার জন্য দেশটিকে আবার নতুন করে ঋণ করতে হবে। অর্থনীতির ভাষায় ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থের জোগান লাগবে। ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি ফিচের হিসেবে ঋণ পরিশোধের জন্য তুরস্কের প্রয়োজন প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলার।

দ্বিতীয়ত, তুরস্কের অনেক কোম্পানি বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নিয়েছে। ডলারের বিপরীতে লিরার দাম পড়ে যাওয়ায় সে ঋণ পরিশোধ এখন ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। তুরস্কের মুদ্রার দাম পড়ে যাওয়ায় দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। কারণ আমদানি করতে এখন আগের চেয়ে বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নির্ধারণ করেছে ৫ শতাংশ। এক বছর আগেও এটি ছিল ১০ শতাংশের ওপরে। সে থেকে এটি অবনতির দিকেই যাচ্ছে। বর্তমানে জীবন-যাত্রার ব্যয় ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের অর্থনৈতিক নীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর তার খবরদারির কারণে বিনিয়োগকারীরা অস্বস্তিতে আছেন।

সুদের হার কমিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করতে পারে। সে চেষ্টা তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংক করেছিল কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রভাব পড়েনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক : অর্থনীতিবিদরা বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সুদের হার বৃদ্ধি করার বিপক্ষে। তিনি এটিকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করেন। ফলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন বাজার স্থিতিশীল করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাইলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক অবনতি হওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের মাঝে নতুন করে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন এক ধর্মযাজককে তুরস্কে আটকের পর দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। তাছাড়া সিরিয়ার যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে তুরস্কের মতপার্থক্য রয়েছে। মার্কিন বাজারে তুরস্কের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টিও আটকে আছে। তাছাড়া মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম সুদের হার বৃদ্ধি করার কারণে সেটির প্রভাব তুরস্কেও পড়েছে।

"