মার্কিন নাগরিকত্ব মিলল ট্রাম্পের শ্বশুর-শাশুড়ির

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পরিবারের সদস্যদের সূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার যে প্রক্রিয়ার কট্টর সমালোচনা করে আসছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেই ‘চেইন মাইগ্রেশনের’ সুযোগ কাজে লাগিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েছেন তার শ্বশুর-শাশুড়ি। স্লোভেনিয়ায় জন্ম নেওয়া ভিক্টর ও আমালিজা নাভস বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ব্যক্তিগত এক আয়োজনের মাধ্যমে এ দম্পতি নাগরিকত্বের শপথ নেন বলে তাদের আইনজীবী মাইকেল ওয়াইল্ডসও নিশ্চিত করেছেন।

মেয়ে মেলানিয়ার সৌজন্যে পাওয়া গ্রিনকার্ড দিয়ে ভিক্টর ও আমালিজা এত দিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। দেশটির অভিবাসন আইন অনুযায়ী তাদের পাঁচ বছর গ্রিন কার্ড ব্যবহারের পর নাগরিকত্বের আবেদন করার কথা ছিল।

নিউইয়র্কে বসবাসরত আবেদনকারীদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাগরিক হতে গড়ে ১১ থেকে ২১ মাস সময় লাগে বলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিভাগের ওয়েবসাইটেও উল্লেখ করা হয়েছে। ভিক্টর ও আমালিজা পাঁচ বছর গ্রিন কার্ড ব্যবহারের শর্ত পূরণ করেছেন বলে দাবি করলেও এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকার করেছেন ওয়াইল্ডস।

স্লোভেনিয়ার সেভনিকা শহরের গাড়ির বিক্রয়কর্মী ভিক্টর ও টেক্সটাইল কারখানায় কাজ করা আমালিজার মেয়ে মেলানিয়া ২০০১ সালে ফ্যাশন মডেল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ‘বিশেষভাবে দক্ষদের’ জন্য নির্ধারিত আইনস্টাইন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে ক্যারিয়ার গড়ে ২০০৬ সালে নেন দেশটির নাগরিকত্ব। আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিক হওয়ার আগেই তখনকার রিয়েল এস্টেট মুঘল ট্রাম্পকে বিয়ে করেন মেলানিয়া। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীর জয়ের পর পান ফার্স্টলেডি খেতাব। ওভাল অফিসের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে ‘চেইন মাইগ্রেশন’ বন্ধে জনমত গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এ প্রক্রিয়ায় কোনো মার্কিন নাগরিক তার পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনের সুযোগ করে দিতে পারে।

ট্রাম্প এ প্রক্রিয়াকে ‘অভিবাসনের ক্ষেত্রে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট আইন’ হিসেবেও অভিহিত করেছিলেন। স্টেট অব দ্য ইউনিয়নের ভাষণে ‘চেইন মাইগ্রেশনের’ পরিবর্তে মেধার ভিত্তিতে য্ক্তুরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব দেওয়া উচিত মন্তব্য করে ডেমোক্র্যোটদের তীব্র প্রতিবাদের মুখেও পড়েছিলেন এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

"