যুক্তরাষ্ট্রের ‘দস্যু মানসিকতা’

শুল্কের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি চীনের

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কারোপের পদক্ষেপকে ‘দস্যু মানসিকতা’ অ্যাখ্যা দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সব ধরনের উপায় বেছে নেওয়ার অধিকার বেইজিংয়ের আছে বলেও বৃহস্পতিবার সতর্ক করেছে তারা। বাণিজ্য বিরোধকে কেন্দ্র করে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের মধ্যে উত্তেজনা যে তরতর করে বাড়ছে চীনা গণমাধ্যমের ভাষ্যে তা প্রতিফলিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। চলমান এ ‘বাণিজ্যযুদ্ধ’ এরই মধ্যে দুই দেশের ইস্পাত থেকে অটোমোবাইল পর্যন্ত অসংখ্য শিল্প খাতে প্রভাব ফেলেছে। কোন পণ্য কখন কার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা।

চলতি মাসের ২৩ তারিখ থেকে ওয়াশিংটন ১৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের চীনা আমদানি পণ্যে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে এমন পরিকল্পনা জানার পর বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিংও সমমূল্যের মার্কিন পণ্যে পাল্টা ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছে।

চীন এর আগেও মার্কিন শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা শুল্ক আরোপ করে জবাব দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র যদি তার দস্যু মানসিকতা থেকে বেরিয়ে না আসে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ নিয়ে চলমান ঠোকাঠুকি আরও বেড়ে যেতে পারে। বাণিজ্যযুদ্ধ এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে চীন, যদিও আর্থিক সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে র আরও বেশি চাহিদার পাল্টায় লড়াই করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকছে না, চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র চায়না ডেইলি তাদের সম্পাদকীয়তে এমনটাই বলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে র নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের পাল্টায় এখন পর্যন্ত ১১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্যে শুল্ক কার্যকর কিংবা আরোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের বিরাট অংশই এ পাল্টা শুল্কের আওতায় পড়লেও এখন পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও বৃহৎ এয়ারক্রাফটের মতো মুনাফাধারী মার্কিন পণ্যগুলো চীনের কোনো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

চীন আত্মবিশ্বাসী, স্বার্থ সুরক্ষায় অনেক উপায় আছে, দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির বৃহস্পতিবারের সকালের খবরেও এমনটাই বলা হয়েছে। চীনের ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক জিয়া জিয়ুডং পিপলস ডেইলির বিদেশ সংস্করণে অভিযোগ করে বলেছেন, শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘চীনের অগ্রগতিকে সঙ্কুচিত’ করতে চাইছে।

দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলিতে বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির সংকটকালে বেইজিং যে ধরনের ‘স্টিমুলাস পরিকল্পনা’ নিয়েছিল টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য চীনেরও সে ধরনের ‘অপ্রচলিত উপায়গুলোর’ দিকে ঝোঁকার কথা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

"