মুদ্রা পাচারের তিন অভিযোগ নাজিবের বিরুদ্ধে

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মালয়েশিয়ার তদন্ত কর্মকর্তারা দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিক রাজাকের বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচারের তিনটি অভিযোগ এনেছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ তহবিল ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদের (ওয়ানএমডিবি) চুরি যাওয়া অর্থের তদন্তের অংশ হিসেবে বুধবার কুয়ালালামপুরের হাইকোর্টে এ অভিযোগগুলো আনা হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।তিনটি অভিযোগেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করা নাজিবের জামিনও মঞ্জুর করেছে আদালত। বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে মালয়েশিয়াকে শীর্ষ অর্থনীতির দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে নাজিবই প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ওয়ানএমডিবি তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরে ওই তহবিলের ৭০ কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে ওই অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হলেও নাজিব বরাবরই কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে নাজিবকে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছিল মালয়েশিয়ার আদালত। প্রধানমন্ত্রী মাহথির মোহাম্মদ ক্ষমতায় এসে নতুন করে ওই দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ দেন।

মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তারা নাজিব রাজাকের বাসায় কয়েক দফা তল্লাশি চালিয়ে বিদেশি মুদ্রা ও বিলাস পণ্য জব্দ করে। জুলাইয়ের শুরুতে নাজিবকে তার কুয়ালালামপুরের বাসভবন থেকে গ্রেফতারও করা হয়।

ওয়ানএমডিবির তহবিল থেকে নাজিব নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ডলার সরিয়ে নিয়েছিলেন, এই অভিযোগের তদন্তের সঙ্গে বুধবারের আনা মুদ্রা পাচারের অভিযোগগুলোর সংযোগ আছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

সদ্য সাবেক এ মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিশ্বাসভঙ্গেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। গত মাসে আদালতে সেসব অভিযোগেও নাজিব নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

অপরাধ প্রমাণিত হলে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিশ্বাসভঙ্গের প্রতিটি অভিযোগে সাবেক এ মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ ২০ বছর করে সাজা হতে পারে। ১৫ বছর করে সাজা হতে পারে মুদ্রা পাচারের অভিযোগগুলোর জন্যও।

"