জনগণকে কঠিন সময়ের ইঙ্গিত দিল চীন

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ট্রাম্প প্রশাসন চীন থেকে আমদানির ওপর আরো শাস্তিমূলক শুল্ক চাপাতে চলেছে। পাল্টা পদক্ষেপের পাশাপাশি চীন জানিয়েছে, সে দেশ নতি স্বীকার করবে না। তবে বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সংঘাত কমার বদলে আরো বড় আকার ধারণ করতে চলেছে। আগামী ২৩ আগস্ট ট্রাম্প প্রশাসন চীন থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপাতে চলেছে। বিশেষ করে সেমি কন্ডাকটর আমদানির ক্ষেত্রে এই শুল্ক প্রয়োগ করা হবে। চীনও একই অংকের শুল্ক চাপিয়ে পাল্টা পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও তা কার্যকর করার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। উল্লেখ্য, এখনো পর্যন্ত দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক চাপিয়েছে।

এমন সংঘাত সত্ত্বেও জুলাই মাসে চীনের রফতানি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়ে গেছে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উদ্বৃত্তও রেকর্ড মাত্রা ছুঁয়েছে যদিও জুন মাসের তুলনায় তা সামান্য কমে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। চীনের মুদ্রা ইউয়ানের পড়তি বিনিময় মূল্য এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। তবে ওয়াশিংটনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ফলে কয়েক মাসে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

সেইসঙ্গে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ, মুদ্রার পড়তি বিনিময় মূল্যের পাশাপাশি চীনে অনেক কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে পড়ায় অর্থনীতি সার্বিকভাবে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এমন অবস্থা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ ও হুমকির মুখে নতি স্বীকার করতে প্রস্তুত নয় চীন। সে দেশের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া সম্প্রতি সরাসরি প্রেসিডেন্টের ট্রাম্প সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করার পর আবার কিছুটা সুর নরম করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ায় বুধবার প্রকাশিত এক সংবাদ ভাষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি উল্লেখ না করেই লেখা হয়েছে, যে বর্তমান ঝড়ঝাপটার মুখেও চীন অবিচল থাকবে। উল্টে যারা চীনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে, আখেরে তাদেরই ক্ষতি হবে।

প্রকাশ্যে শক্তিশালী অবস্থান দেখালেও চীনের নেতৃত্ব কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়েছে। সিনহুয়ার সংবাদভাষ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, অতীতেও চীনের মানুষ কঠিন অবস্থা ও সংকটের সামনে অবিচল থেকে আরো সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে গেছে। অর্থাৎ বর্তমান সংকটের কারণে চীনের মানুষের কিছু ক্ষতির আশঙ্কা করছে সে দেশের নেতৃত্ব।

"