চীনকে সন্তুষ্ট করতে মার্কিন প্রকল্প থেকে সরে গেল ভারত!

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় নীতির প্রশ্নে নিঃশব্দ বদল এনে চীন বিরোধিতাকে লঘু করতে উদ্যোগী হয়েছে ভারত। সিঙ্গাপুরে ১ জুন শাংগ্রি লা সংলাপে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, এই মহাসাগরীয় অঞ্চলকে তিনি কখনওই ‘হাতে গোনা কিছু সদস্য দেশের কৌশলগত ক্ষেত্র বা ক্লাব’ হিসেবে দেখেন না। তখনই সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছিল, চীনের সঙ্গে সংঘাত এড়িয়েই মহাসাগরীয় নীতি তৈরি করা হবে।

সূত্রের খবর, ৩০ জুলাই জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং আমেরিকার উদ্যোগে ওই অঞ্চলেই পরিকাঠামো-সংক্রান্ত যে প্রকল্প ঘোষণা হয়, তাতে থাকার কথা ছিল ভারতেরও। কিন্তু ওই প্রকল্প থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে ভারত। কূটনৈতিক সূত্রের আরো খবর, সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে ২+২-এর বৈঠকটি হতে চলেছে, সেখানে প্রসঙ্গটি ফের উত্থাপন করে ভারতের ওপর চাপ তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্র। বলা হবে ওই উদ্যোগে শামিল হতে। সেখানে কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়, তার প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারত।

এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যে ত্রিপাক্ষিক প্রকল্পটি শুরু হল, তাকে চীনের ওবর প্রকল্পের পাল্টা হিসেবেই মনে করা হচ্ছে। এটা ঘটনা যে ভারত এখনো ঘোষিতভাবে ওবরের বিরোধী। কিন্তু একই সঙ্গে তারা এই মুহূর্তে নতুন করে এমন কোনও বার্তাও চীনকে দিতে চায় না যাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আবার সংকট তৈরি হয়।

উহানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠকের পর থেকেই ডোকলাম-ক্ষতে প্রলেপ দিতে তৎপর হয়েছে ভারত। মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের একাধিপত্যের বিরুদ্ধে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে নেতৃত্ব দান থেকেও ধীরে ধীরে পিছু হঠেছে মোদি সরকার।

শাংগ্রিলায় তার বক্তৃতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট করে দেন, এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কোনো বিশেষ দেশের (চীন) বিরুদ্ধাচরণ করা তার কাম্য নয়। রাজনৈতিক সূত্রের মতে, ভারতের এই পরিবর্তিত অবস্থান ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর কাছে হতাশাজনক হলেও ভারত এ ক্ষেত্রে অনড়। ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে জাতীয় বাধ্যবাধকতার দিকটি বিবেচনা করে শক্তিশালী প্রতিবেশী চীনের সঙ্গে নরম নীতি নিয়ে এগোনোটাই এখন বিজেপি সরকারের কাছে জরুরি।

অথচ, গত নভেম্বরে সাড়ম্বরেই এই তিনটি দেশের (জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং আমেরিকা) সঙ্গে চতুর্দেশীয় জোট গড়েছিল ভারত। উদ্দেশ্য ছিল, চীনের একাধিপত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। মহাসাগরীয় অঞ্চলকে ‘মুক্ত এবং অবাধ’ এবং ‘আঞ্চলিক সংযোগকে শক্তিশালী’ করতে জাপান এবং জাপান-অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পৃথক আলোচনাও করেছিল ভারত। কিন্তু এরপরই চীনের সঙ্গে ধীরে ধীরে সম্পর্ক সহজ করার পথে হাঁটতে থাকে ভারত সরকার।

"