নতুন মারণ গেম মোমো

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আত্মঘাতী কিশোরী সেই ‘মোমো’র ছবি যা দ্রুত ছড়াচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপে। ফের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার এক প্রাণঘাতী ‘গেম’ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে। যার নাম ‘মোমো চ্যালেঞ্জ সুইসাইড গেম’। এবার তা ছড়িয়ে পড়ছে তুমুল জনপ্রিয় হোয়াটসঅ্যাপে। ফলে আত্মহত্যার হাতছানির ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে গেল। তবে শিশুদের অনলাইন গেম ‘মাইন ক্রাফট’ এও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই ‘মোমো’। খবর এরই মধ্যে তার শিকার হয়েছে আর্জেন্টিনার ১২ বছরের একটি কিশোরী।

‘ব্লু হোয়েল গেম’ এর কথা মনে আছে? যা খেলতে খেলতে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণ প্রজন্মের আত্মহত্যার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। ওই প্রাণঘাতী ‘গেম’ দাবানলের বেগে প্রায় গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল ‘ডার্ক ওয়েব’ এর মাধ্যমে। সেই ‘ব্লু হোয়েল’ এর জায়গা নিয়েছে এখন ‘মোমো চ্যালেঞ্জ সুইসাইড গেম’। ব্রিটেনের একটি ওয়েবসাইট ‘দ্যসান.কো.ইউকে’ জানাচ্ছে, সেই প্রাণঘাতী ‘গেম’ ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, আমেরিকা, ফ্রান্স ও জার্মানিতে। নেপালেও। একটি ওয়েবসাইট ‘নিউজ.কম.এইউ’ এর খবর, আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ারসে ‘মোমো চ্যালেঞ্জ সুইসাইড গেম’ এর ফাঁদে পড়ে আত্মঘাতী হয়েছে ১২ বছরের একটি কিশোরী। পুলিশ সূত্র বলছে, হোয়াটসঅ্যাপে ‘মোমো’র ছবি শেয়ার করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার বাড়ির পেছন দিকের জমিতে ১২ বছরের মেয়েটির লাশ পড়ে ছিল। ব্রিটেনে এখনো ছড়ায়নি ওই ‘গেম’। হোয়াটসঅ্যাপে ‘গেম’টা চলছে বলে দ্রুত ভারতসহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

‘মোমো’ কী জিনিস? ‘মোমো’ একটি মেয়ের ছবি। যার দুইটি চোখ কোঠর থেকে ঠেলে বেরিয়ে আসছে। তার পা দুইটি পাখির মতো। পায়ের আঙুল ও নখগুলো বড় বড়। মুখটা অসম্ভব রকমের চওড়া। মাথাটা লম্বা। চুলগুলো খুব কালো। দুইটি কানের পাশ দিয়ে তা অনেকটা পর্যন্ত নেমেছে। মাথার ওপরের দিকটা দেখলে মনে হবে টাক আছে। তারই মাঝে কিছুটা জায়গা ছেড়ে ছেড়ে রয়েছে চুল। ‘মোমো’র এই ছবিটা এঁকেছিলেন এক জাপানি শিল্পী। মিদোরি হায়াশি। ওয়েবসাইট ‘দ্যসান.কো.ইউকে’ জানাচ্ছে, শিল্পী হায়াশি কোনোভাবেই জড়িত নন এই আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া ‘গেম’টির সঙ্গে। ২০১৬ সালে টোকিওর ‘ভ্যানিলা গ্যালারি’তে একটি শিল্প প্রদর্শনীর জন্যই ওই ‘মোমো’র ছবি এঁকেছিলেন হায়াশি। কোনো ফোন নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ে এই ‘গেম’?

যতটুকু জানা গিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপের এই ‘গেম’টি জাপানের আইএসডি কোডসহ ৩টি ফোন নম্বরের। আর কলম্বিয়ার আইএসডি কোডসহ ২টি এবং মেক্সিকোর আইএসডি কোডসহ আরো একটি নম্বরের সঙ্গে সংযুক্ত।

কোথায় শুরু এই ‘গেম’ এর? মেক্সিকোর একটি পুলিশ ইউনিট যারা অনলাইন অপরাধ নিয়ে কাজ করে তারা বলছে, ‘এটা শুরু হয় ফেসবুকে। কেউ কেউ একে অন্যকে প্রলুব্ধ করে একটি অপরিচিত ফোন নম্বরে ‘কল’ করার জন্য। তবে সেখানে একটি সতর্কতা দেওয়া ছিল।

কেন ওই ‘গেম’ অত্যন্ত বিপজ্জনক? মেক্সিকোর পুলিশ জানাচ্ছে, অন্তত পাঁচটি কারণে ‘মোমো’কে এড়িয়ে চলা উচিত। উপেক্ষা করা উচিত বলে মনে করে তারা।

১. ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হতে পারে। ২. হিংসা, এমনকি আত্মহত্যায় প্রলুব্ধ করে। ৩. ব্যবহারকারী নানা রকমের হয়রানির শিকার হতে পারেন। ৪. ব্যবহারকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লোপাট হয়ে যেতে পারে, ‘হ্যাকিং’ এর বদৌলতে। ৫. ব্যবহারকারী মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তিনি উদ্বেগ, বিষণœতা ও অনিদ্রাজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

"