কানাডায় সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করেছে সৌদি

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে কানাডার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পর এবার দেশটিতে সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করল সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় নিযুক্ত সৌদির স্বাস্থ্য অ্যাটাশে ডা. ফাহদ বিন ইব্রাহিম আল তামিমির উদ্ধৃতি দিয়ে বুধবার এ সংবাদ দিয়েছে সৌদি বার্তা সংস্থা, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

দেশটির কর্তৃপক্ষ কানাডায় থাকা সৌদির সব রোগীকে কানাডার বাইরে অন্যান্য হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়ার কাজ সমন্বয় করছে বলে জানিয়েছেন তামিমি। আটক নাগরিক অধিকার ও নারী অধিকার আন্দোলনকারীদের মুক্তি দিতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানানোর পর কানাডার ওপর ক্ষুব্ধ হয় সৌদি আরব।

অধিকার কর্মীদের আটককে ‘আইনানুগ’ অ্যাখ্যা দিয়ে কানাডার দেওয়া বিবৃতিকে ‘সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ’ হিসেবেও অভিহিত করে রিয়াদ।

এর জেরে সোমবার কানাডার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের পাশাপাশি কানাডা থেকে নিজ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয় দেশটি।

এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বন্ধ, কানাডায় পড়তে যাওয়া সৌদি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি বাতিল এবং যেসব সৌদি শিক্ষার্থী কানাডায় অবস্থান করছে তাদের ফিরিয়ে আনারও ঘোষণা দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া কানাডার টরন্টোতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাও স্থগিত করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্স। এবার কানাডায় সবধরনের চিকিৎসা কার্যক্রমও বন্ধ করল দেশটি।

রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার, নতুন বাণিজ্য বন্ধসহ রিয়াদের বিভিন্ন পদক্ষেপের সত্বেও ‘মানবাধিকারের পক্ষে তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে’ বলে জানিয়েছে কানাডা।

৯/১১-এর আল কায়দায় ছবি টুইট সৌদি গোষ্ঠীর : ঠিক যেন আমেরিকায় ৯/১১-এর হামলার দৃশ্য। টুইটারে পোস্ট হয়েছিল তেমনই ছবি। যাতে দেখা গেছে, এয়ার কানাডার একটি বিমান ধেয়ে যাচ্ছে টরন্টোর সিএন টাওয়ারের দিকে। ছবির ওপরে লেখা, ‘আরবিতে যেমন বলা হয়, যে বিষয়ে কারো মাথাব্যথা থাকা উচিত নয়, সে যদি তাতেই নাক গলায় তাহলে আখেরে ঝামেলায় পড়ে সেই। এর সঙ্গেই রয়েছে, কানাডার প্রতি অভিযোগ, সেখানেই নাক গলায়, যেখানে তার থাকার কথা নয়।’

সৌদি যুবকদের একটি প্রতিষ্ঠান ‘ইনফোগ্রাফিক কেএসএ’। ওই নামেই টুইটারের অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছিল। তাদের ওয়েবসাইটে লেখা রয়েছে, এই গোষ্ঠী প্রযুক্তিতে আগ্রহী যুবকদের নিয়ে তৈরি হয়েছে। টুইটারে এই গোষ্ঠীর ফলোয়ার সাড়ে ৩ লাখেরও বেশি। ইনস্টাগ্রামে ৮৮ হাজার লোক তাদের ফলো করে। সাধারণত সৌদি সরকারের সমর্থনে নানা বার্তা পোস্ট করে এই গোষ্ঠী।

কানাডাকে বিঁধে এই গোষ্ঠীর দেওয়া সাম্প্রতিক ছবি নিয়ে হইচই শুরু হতেই সেটি মুছে দেয় ওই গোষ্ঠী। পরে তারা ক্ষমাও চেয়েছে। উল্লেখ্য, ৯/১১-এর হামলায় ১৯ ছিনতাইকারীর মধ্যে ১৫ জন ছিল সৌদির নাগরিক।

টুইটারে ছবি পোস্টের আগে থেকেই অবশ্য কূটনৈতিক তরজা চলছে কানাডা এবং সৌদি আরবের মধ্যে। গত রোববার সৌদি সরকার কানাডার রাষ্ট্রদূতকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন। কানাডার সৌদি দূতকেও ফিরে আসতে বলা হয়েছে। সৌদি আরবে বিশিষ্টজন এবং নারী অধিকারের আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাই নিয়ে কানাডার সংবাদমাধ্যম টুইটে উদ্বেগ জানিয়েছিল। সওয়াল করেছিল বন্দিদের মুক্তির জন্য। তাতেই নড়ে বসে সৌদি প্রশাসন। রোববার তারা জানায়, কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যিক আদান প্রদানও বন্ধ করে দেবে তারা। ‘ইনফোগ্রাফিক কেএসএ’-এর টুইট নিয়ে সৌদি সরকার জানিয়েছে, এ নিয়ে তদন্ত হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকবে।

"