‘কোনো শক্তিই আমাদের ভারত থেকে তাড়াতে পারবে না’

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘পৃথিবীর কোনো শক্তিই ভারত থেকে আমাদের তাড়াতে পারবে না।’ সোমবার পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার মহাজাতি সদনে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের এক সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আসামে নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে উদ্ভূত সমস্যা সম্পর্কে ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এনআরসি খসড়ায় ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ায় সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘জন্ম সূত্রে আমরা ভারতীয়, পৈতৃক সূত্রে আমরা ভারতীয় এবং উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা ভারতীয় আছি এবং ইনশাআল্লাহ থাকবই, থাকব। পৃথিবীর কোনো শক্তি আমাদের তাড়াতে পারবে না।’

তিনি কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির উদ্দেশ্যে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘দেশকে বিচ্ছিন্নতাবাদের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, হিংসার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ওরা আগুন নিয়ে খেলা করছে। ওই খেলা আমরা করতে দেব না। আমাদের অবদানের বলেই তো দেশ স্বাধীন হয়েছে!’

বাংলায় পরিবর্তনের (রাজনৈতিক পালাবদল) জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের অবদানের পাশাপাশি জমিয়তের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের গায়ে আন্দোলনের রক্ত আছে। বিজেপি-আরএসএসের ভয়ে আমরা গুটিয়ে যাব, ওরকম বদ রক্ত আমাদের গায়ে নেই। আমরা বুক চিতিয়ে লড়াই করতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলার মাটি, ভালোবাসার মাটি, সম্প্রীতি, সৌহার্দের মাটি, ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের মাটি। এখানে হিংসার কোনো স্থান নেই।’

সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বাবরি মসজিদ ভাঙার পরে পৃথিবীর সামনে বিজেপির মুখ পুড়েছে, গুজরাটের দাঙ্গায় মুখ পুড়েছে। নোট বাতিলের মধ্য দিয়ে মুখ পুড়েছে, কে গরুর গোশত খাবে কী খাবে না এতে মুখ পুড়েছে। একইভাবে নাগরিকত্ব ইস্যুতেও বিজেপির মুখ পুড়বে।’

আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) থেকে যেসব বৈধ ভারতীয়দের নাম বাদ গেছে তিনি তাদের নিয়ম সরলীকরণের মধ্যদিয়ে এনআরসিতে অন্তর্ভুক্ত করাসহ পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এ কথা বিজেপিদের মনে রাখা প্রয়োজন, ভারতবাসীরা বিজেপির দয়ায় বসবাস করে না। এখানে কোনো ধর্ম, বর্ণের বিষয় নয়। আমরা কারো দয়ায় বাস করি না। কিসের ভয় দেখান? এটা আমাদের দেশ।’

তিনি আসামে নাগরিকত্ব ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ভূমিকা ও পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

"