ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রত্যাশা অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে একতরফা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। ইরান ওয়াশিংটনের সংলাপের প্রস্তাবের জবাবে ক্ষতিপূরণ ও ক্ষমার পূর্বশর্ত চাপিয়েছে।

২০১৫ সালের আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের দাবি, ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া গোটা অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদে মদদ ও প্রভাব বিস্তার করে চলেছে সে দেশ। সেসব কার্যকলাপে রাশ টানতে না পারায় পরমাণু চুক্তি শুরু থেকেই ত্রুটিপূর্ণ ছিল। একতরফা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করার জন্য বাকি দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার প্রথম দফার নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের আর্থিক কাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ফলে সে দেশের সরকার মার্কিন ডলার কেনা, সোনা কেনাবেচা ও সরকারি বন্ড বিক্রির ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়বে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা চাপাতে পারে ওয়াশিংটন। এছাড়া গাড়ি শিল্প, বেসামরিক বিমান পরিবহন, গালিচা ও খাদ্য রফতানি, কিছু ধাতু আমদানির ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়বে ইরান। আগামী নভেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জ্বালানি ক্ষেত্রের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা চাপাতে চায়। তার আগেই ইরান থেকে পেট্রোলিয়াম আমদানি ধীরে ধীরে কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে ওয়াশিংটন।

তবে মার্কিন চাপ প্রতিরোধ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মঙ্গলবার থেকে একটি আইন কার্যকর করছে। এর আওতায় ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান সংকট কাটানোর প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান অবশ্য এখনো পর্যন্ত সেই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। সে দেশের মতে, পরমাণু চুক্তি থেকে সরে গিয়ে আমেরিকা তার নির্ভর যোগ্যতা হারিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ১৯৫৩ সাল থেকে ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের ক্ষতিপূরণ পেলে এবং আমেরিকা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি সে দেশের সঙ্গে সংলাপের জন্য প্রস্তুত। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান পরমাণু চুক্তি মেনে চলবে, বলেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহম্মদ জাভাদ জারিফ ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, বিশেষ করে বেসামরিক বিমানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ির ফলে ইরানের সাধারণ নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করা হচ্ছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই ইরানের অর্থনীতি প্রবল চাপের মুখে পড়েছে। সে দেশের মুদ্রার নাটকীয় অবমূল্যায়ন ঘটে চলেছে। পেট্রোলিয়াম রফতানি কমে গেলে আরো ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পরমাণু চুক্তির বাকি স্বাক্ষরকারী দেশগুলো এখনো ওয়াশিংটনের কাছে নতি স্বীকার না করলেও বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থায় আমেরিকার আধিপত্যের কারণে ইরান কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।

 

"