ন্যাটোর সামরিক ব্যয় বৃদ্ধিতে ট্রাম্পের দাবি নাকচ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সামরিক জোট ন্যাটোর ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে সদস্য দেশগুলো রাজি হয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা নাকচ করেছে ইতালি ও ফ্রান্স। এপির খবর। দেশ দুটি জানিয়েছে, এখনই ব্যয় বৃদ্ধির ব্যাপারে কোনো সমঝোতা হয়নি। ২০২৪ সাল থেকে ব্যয় বাড়ানোর ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে। গত বুধবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে শুরু হয়েছে দুই দিনের ন্যাটো সম্মেলন। এতে যোগ দেন সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ন্যাটো মিত্রদের প্রকাশ্য সমালোচনা করে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প। বারবার তিনি বলে আসছেন যুক্তরাষ্ট্র অন্যায্য অতিরিক্ত ব্যয় করছে। তার দাবি অন্য ন্যাটো দেশগুলোর চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জিডিপির বহু গুণ বেশি সামরিক ব্যয় করে আসছে। সম্মেলন সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সদস্য দেশগুলোকে ব্যয় বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। সম্মেলনের শেষ দিনে ট্রাম্প টুইটার বার্তায় দাবি করেন, ‘ন্যাটো সদস্য দেশগুলো জোটের জন্য তাদের জিডিপির শতকরা দুই ভাগের জায়গায় চার ভাগ ব্যয় করতে রাজি হয়েছে।’

কিন্তু ম্যাক্রোঁ এক সংবাদ সমঝোতার দাবি নাকচ করে বলেন, সম্মেলনের যে চূড়ান্ত ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে ন্যাটো জোটের জন্য ২০২৪ সাল থেকে শতকরা দুই ভাগ ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে; এর চেয়ে বেশি কিছু না।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপে কোন্তেও ফরাসি প্রেসিডেন্টের সুরে কথা বলেছেন। তিনি ন্যাটো সামরিক বাজেট বাড়ানোর কথা নাকচ করে বলেন, ‘ইতালি তার প্রতিশ্রুতি মতো অর্থ দিয়ে যাচ্ছে এবং ব্যয় বাড়নোর বিষয়ে তাকে কিছু বলা হয়নি। ফলে নতুন বাড়তি ব্যয়ের প্রশ্নও নেই।’ যদি সম্মেলনের অবকাশে তিনি এমন কোনো কিছু বলে থাকনে তাহলে আমি তা জানি না।

গত বুধবার ন্যাটো সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে ন্যাটো সেক্রেটারি জেনস স্টোলেনবার্গ বলেন, সামনের বছরগুলোতে আরো বেশি ব্যয় করতে সদস্য দেশগুলো সম্মত হয়েছে। ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সব সদস্য দেশই প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে। এই বছরে কমপক্ষে আটটি ন্যাটো সদস্য দেশ তাদের জিডিপির দুই শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর আমাদের বেশিরভাগ সদস্য দেশের ২০২৪ সালের মধ্যে এমনটি করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

"