বরিস জনসনের পদত্যাগ

ব্রেক্সিট সংকটে নতুন মাত্রা

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ব্রেক্সিটমন্ত্রী ডেভিড ডেভিসের পদত্যাগের পর ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন পদত্যাগ করেছেন। ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এক ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সংকট এখন এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এলোমেলো সোনালি চুলের বরিস জনসন লন্ডনের সাবেক মেয়র, ব্রিটিশ রাজনীতির এক জনপ্রিয় এবং বর্ণাঢ্য চরিত্র, যার চটকদার কথা এবং বিচিত্র কর্মকা- প্রায় সব সময়ই সংবাদপত্রে খবর হয়। ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগের প্রশ্নে যখন গণভোট হয়েছিলÑতখন এই বরিস জনসনই ছিলেন ইইউ ত্যাগের সমর্থক শিবিরের প্রধান নেতা। ২০১৬ সালের ওই গণভোটে ইইউ ত্যাগের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পড়ে।

এরপর সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেন এবং থেরেসা মে নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়ে বরিস জনসনকে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে তার নতুন ব্রেক্সিটবিষয়ক পরিকল্পনা প্রকাশ করার পর থেকেই তার কনসারভেটিভ পার্টির এমপিদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।

বলা হয়, বরিস জনসন এবং তার অনুগামীরা ইইউ থেকে ব্রিটেনের প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছেদের পক্ষে, যাতে ইউরোপ থেকে অবাধ অভিবাসন এবং ব্রিটেনের ওপর ব্রাসেলসের কর্তৃত্ব বন্ধ হয়। এদের বলা হয় ‘হার্ড বেক্সিট’ গ্রুপ।

আর অন্যপক্ষকে বলা হয় ‘সফট ব্রেক্সিট’ পক্ষÑএরা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতার বিরোধী, তারা চান ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থেকে ব্রিটেন যে সুবিধাগুলো পায়, সেগুলো অব্যাহত রাখতে, যাতে তাদের ভাষায় ব্রিটেনে কর্মসংস্থান এবং ইইউ-ব্রিটেন ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

তাই গণভোটের পর থেকেই ব্রিটেনে এ বিতর্ক চলছে যে ব্রিটেন ইউরোপ থেকে কতটুকু আলাদা হবে এবং কীভাবে তার বাস্তবায়ন হবে। ব্রিটেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগ করবে ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ।

এখন থেরেসা মে ব্রেক্সিটের যে পরিকল্পনা দিয়েছেন, তার সমালোচনা করে কড়া ব্রেক্সিটপন্থিরা বলছেন, এতে ইউরোপকে খুব সহজে অনেক বেশি ছাড় দেওয়া হয়েছে। এরপর প্রথম পদত্যাগ করেন ব্রেক্সিটমন্ত্রী ডেভিড ডেভিস।

তার কথা, এ পরিকল্পনায় তিনি বিশ্বাস করেন না, তাই এর পক্ষ নিয়ে ব্রাসেলসের সঙ্গে ব্রেক্সিটের আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই পদত্যাগ করেন ব্রেক্সিটের পক্ষের মূল নেতা বরিস জনসন, যিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েও থেরেসা মের ব্রেক্সিট পরিকল্পনার সমালোচনা করে চলেছিলেন, কিন্তু সরকার ছেড়ে যাননি। বিবিসির বিশ্লেষক লরা কুয়েন্সবার্গ বলছেন, বরিস জনসনের বিদায়ের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এক অপ্রস্তুত এবং কঠিন অবস্থায় পড়ে গেছেন এবং এটা এখন পূর্ণাঙ্গ সংকটে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলছেন, এর ফলে হয়তো কড়া ব্রেক্সিটপন্থি শিবির থেকে মের নেতৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। তাকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে, তিনি তার পরিকল্পনা ত্যাগ না করলে একের পর এক মন্ত্রী পদত্যাগ করবেন। বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, জনসন এবং ডেভিস সরকারের ডুবন্ত জাহাজ থেকে নেমে গেছেন এবং মে তার দলে ঐক্য আছে বলে যে বিভ্রম তৈরি করে রেখেছিলেন, তা ভেঙে পড়েছে। এ রকম সংকটের মধ্যে থেরেসা মে কীভাবে তার সরকারকে টিকিয়ে রাখেন এটাই এখন দেখার বিষয়।

"