অবশেষে মার্কেল-সেহোফার দ্বন্দ্বের অবসান

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফার জানিয়েছেন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের সঙ্গে অভিবাসননীতি নিয়ে তার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে। এর আগে শরণার্থী নীতি নিয়ে বিরোধে পদত্যাগেরও হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

খ্রিস্টীয় সামাজিক ইউনিয়নÑ সিএসইউর নেতা সেহোফার রোববার জানিয়েছেন, খ্রিস্টীয় গণতন্ত্রী দলÑ সিডিইউয়ের সঙ্গে তার জোট এখন ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছে। দৈনিক পত্রিকা বিল্ডকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গাড়ির পেছনে দেখার গ্লাসের চেয়ে সামনের উইন্ডস্ক্রিন সব সময়ই বড় হয়। আমরা সব সময়ই সে মূল্যবোধে ধরে এগোচ্ছি।

মার্কেলের অবস্থান শুধু জার্মানিতেই নয়, পুরো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে বিপদে ফেলার জন্য দুঃখ প্রকাশে অবশ্য রাজি নন সেহোফার। তিনি বলছেন, আমাদের কিছু বিষয়ে মতবিরোধ ছিল। কিন্তু কখনই তা ব্যক্তিগত আক্রমণে রূপ নেয়নি। এখন মার্কেলের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করা তার ‘দায়িত্ব’ বলেও মন্তব্য করেন সেহোফার। সীমান্ত থেকে অবৈধ শরণার্থীদের বিদায় করতে জার্মাননীতি কার্যকরে বদ্ধপরিকর ছিলেন সেহোফার। তবে চ্যান্সেলর মার্কেল বারবার বলছিলেন, এর ফলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের চলাচলের স্বাধীনতা বিষয়ক যে মূলনীতি তা বাধাগ্রস্ত হবে। সেহোফার এবং তার সিএসইউ দল একভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে সীমান্তে কড়াকড়ির হুমকিও দিয়েছিল। তখন ধারণা করা হচ্ছিল চ্যান্সেলরকে এড়িয়ে কোনো একক সিদ্ধান্ত নিলে বরখাস্ত হতে পারেন সেহোফার।

এর আগে কঠোর নীতি গ্রহণ না করলে পদত্যাগ এবং জোট সরকার ভেঙে দেয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন সেহোফার। জোটে সেহোফারের সিএসইউ, মার্কেলের সিডিইউ ছাড়াও মধ্যবামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটÑএসপিডিও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার এই তিন দলের নেতাই জার্মানিতে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে এবং একটি কঠোর নীতি গ্রহণে একমত হন।

তবে বিরোধীদের অভিযোগ, অক্টোবরে বাভারিয়ার নির্বাচনে কট্টরপন্থি ভোটারদের নিজের দিকে টানতেই শরণার্থী ইস্যুতে এমন কঠোর অবস্থানে গিয়েছেন সেহোফার। জার্মানির সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত বাভারিয়ান রাজ্যে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে লাখ লাখ শরণার্থী প্রবেশ করেছেন। এরপর থেকে সেখানে শরণার্থীবিরোধী মনোভাব ধীরে ধীরে প্রবল হয়ে উঠেছে। বাভারিয়ায় শরণার্থীবিরোধী দল অলটারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ড- এএফডি এখন ব্যাপক জনপ্রিয়। ২০১৭ সালের নির্বাচনে দেশের সবচেয়ে বড় বিরোধী দলের জায়গা দখল করেছে এএফডি।

"