আফগানিস্তানে অনলাইন কেনাকাটায় ঝোঁক

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যেকোনো সময় হতে পারে হামলা, রাস্তাঘাটে হয়রানি এমনকি যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতো আছেই। এসব এড়াতে অনলাইন কেনাকাটার দিকে ঝুঁকছেন আফগান ক্রেতারা। ফ্যাশন পণ্য থেকে শুরু করে ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যদ্রব্য, তৈজসপত্রসহ সবই পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে। আফগানিস্তানে বিশেষ করে রাজধানী কাবুলে এ বছর আত্মঘাতী বোমা হামলা এবং অন্যান্য হামলা বেড়ে গেছে। হামলায় শত শত মানুষ হতাহত হচ্ছে। এ বছর অক্টোবরে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সড়কগুলোয় যৌন নিপীড়নও বেড়েছে। শিক্ষার্থী আসিলা সুলাইমানি অনলাইনে কেনাকাটার এ সুযোগকে যুদ্ধাবস্থায় থাকা একটি দেশের জন্য ‘দারুণ অভিজ্ঞতা’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আজকাল কে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বাইরে কেনাকাটা করতে যায়? যদিও জানি কেউ কেউ এখনো যায়, কিন্তু আমার জন্য বিষয়টা সব সময়ই বেশ কঠিন। বিস্ফোরণের আতঙ্ক বা হামলা হয় কি না এবং যেটা সবচেয়ে বেশি হয়, সেট হলো রাস্তায় হয়রানি। এসব আমাকে আমার ছায়ারমতো তাড়া করে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আফগানিস্তানে মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের কম এবং তারা স্মার্ট ফোন ব্যবহারে দক্ষ।

এসব তরুণ ক্রেতাদের কথা বিবেচনা করে দেশটিতে আজাদবাজার ডট এএফ, আফোম ডট এএফ, জেভিবাজার ডটকম, জারিনাস ডটকম নামে বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রসাধনী, কম্পিউটার, রান্নাঘরের জিনিসপত্র, আসবাব থেকে গাড়ি, এমনকি জমি বা ফ্ল্যাটও কেনা যাচ্ছে। তামিম রাসা নামে ২৮ বছরের এক যুবক আট মাস আগে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পুঁজি নিয়ে ‘রাসা অনলাইন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করেন।

এখন পর্যন্ত তিনি ৬০টির বেশি বড় বড় দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। তার ক্রেতাদের ৮০ শতাংশই নারী। মাত্র আটজন লোক মিলে ‘রাসা অনলাইন’ পরিচালনা করেন।

তিনি বলেন, আমরা জনগণের সঙ্গে বড় দোকান বা ব্যবসায়ীদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করি। এক মাস আগেও নিজেদের খরচ জোগাতে আমাদের হিমশিম খেতে হতো। আমাদের লোকসান হচ্ছিল। কিন্তু এখন আমরা দিনে এক হাজার থেকে তিন হাজার আফগানি লাভ করি। এর অর্থ আমরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। নিজের ব্যবসা আরো বিস্তারের পরিকল্পনা করছেন এ যুবক।

"