নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন জে. মুশাররফ

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক পারভেজ মুশাররফ দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হবে না এবং তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এক রুলে এ কথা জানিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সাকিব নাসির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রুল জারি করে। দেশটির ইংরেজি দৈনিক ডন এ কথা জানায়। মুশাররফকে আগামী ১৩ জুনের মধ্যে লাহোর রেজিস্ট্রি অফিসে সশরীরে হাজির হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। আগামী ২৫ জুলাই পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন। ২০১৩ সালে পেশওয়ার হাইকোর্ট মুশাররফকে রাজনীতিতে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ওই বছরের জাতীয় নির্বাচনেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে আপিল করেন জেনারেল মুশাররফ। গত বৃহস্পতিবার ওই আপিলের শুনানিতে মুশাররফের আইনজীবী প্রধান বিচারপতির কাছে তার মক্কেল দেশে ফিরলে অবশ্যই তাকে গ্রেফতার করা হবে না মর্মে লিখিত নির্দেশ জারির আবেদন করেন। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, তাকে দেশে ফিরতে বলুন। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হবে না। মুশাররফের আইনজীবী তারপর গত নির্বাচনে তার মক্কেলের মনোনয়নপত্র গ্রহণ না কারার কথা বলেন। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, যদি তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন রিটার্নিং অফিসার তা গ্রহণ করবেন।

সম্প্রতি মুশাররফের দল অল পাকিস্তান মুসলিম লিগের মহাসচিব মোহাম্মদ আমজাদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ঈদের পর’ মুশাররফ দেশে ফিরবেন। যদি তার আপিল আবেদন খারিজও হয়ে যায় তবুও সাবেক প্রেসিডেন্ট দেশে ফিরবেন। নির্বাচনের সময় তিনি দলের নেতৃত্ব দেবেন।

 

তিনি কয়েক দিনের মধ্যে দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবেন। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জেনারেল মুশাররফ।

মুশাররফের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহসহ ১৯৯৯ সালে সেনাপ্রধান হিসাবে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল সংক্রান্ত অন্যান্য অভিযোগে ?মামলা চলছে। দেশদ্রোহের মামলার শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে তার সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০০৭ সালে সামরিক অভিযান চালিয়ে লাল মসজিদের ধর্মীয় নেতা গাজী আবদুল রশীদ হত্যা মামলায় ২০১৫ সালে ইসলামাবাদের একটি আদালত মুশাররফের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জরি করে। ?মুশাররফ একই সঙ্গে ২০০৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যা মামলার পলাতক আসামি।

২০১৬ সালের মার্চে ৭৪ বছরের মুশাররফ চিকিৎসার নামে দুবাই গিয়ে আর পাকিস্তানে ফেরেননি। বর্তমানে তিনি সেখানেই বসবাস করছেন।

"