ইরাকে যুদ্ধে সবহারা শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন যে নারী

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরাকের সরকারি বাহিনী মসুল শহরের নিয়ন্ত্রণ ইসলামিক স্টেট যোদ্ধাদের হাত থেকে উদ্ধার করে বিজয় ঘোষণার পর আট মাস কেটে গেছে। এখনো হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও কর্তৃপক্ষের হাতে উদ্ধার হচ্ছে এমন সব শিশুরা যারা যুদ্ধের ডামাডোলে হয় পিতামাতা হারিয়েছে, না হলে পরিত্যক্ত হয়েছে। আর এসব শিশুর সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন এমন এক নারী যার নিজের জীবনে তছনছ করে দিয়েছে এই জঙ্গি গোষ্ঠী। আইএস যোদ্ধারা সুকাইনা মুহাম্মাদ আলী ইউনুসের জীবন ওলট-পালট করে দিয়েছে, কিন্তু আইএস যোদ্ধাদের সন্তানরা যারা যুদ্ধে অনাথ হয়েছে তাদের নির্ভরতার আশ্রয় হয়ে উঠেছেন সুকাইনা নিজে। পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আসাদ এখন কোথায়? ‘আইএস আমার জীবনের সমস্ত কিছু তছনছ করে দিয়েছে। আর এখন আমি তাদের সন্তানদের সাহায্য করছি।’ ইসলামিক স্টেট যোদ্ধাদের হামলার পর মসুলে তার বাড়ি ছেড়ে পালান সুকাইনা। এরপর সেখানে নিজেদের দফতর বানায় আইএস। সুকাইনা দেখাচ্ছিলেন তার নিজের বাড়ির দরজায় আইএস যোদ্ধারা লিখে রেখেছে, ‘আইএসের সম্পত্তি, ২০১৪।’ সেই বাড়ির ভেতর বসে তারা বোমা তৈরি করত এবং দরজার বাইরে উঠোনে তারা কবর খুঁড়েছিল।

এসব শিশুর মধ্যে কেউ কেউ হয়তো সরাসরি আইএস যোদ্ধাদের সন্তান।

এখানেই রয়েছে দুই বছর বয়সী জানাত, হাজারখানেক বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে এমন একটি ক্যাম্পে তাকে পাওয়া যায়। পরিবারের আর কারো খোঁজ ছিল না। ‘সে কে, তার কী পরিচয়, কেউ জানত না। তার চুল ছিল অনেক লম্বা এবং উকুনে ভরা। ফলে তার চুল আমরা কেটে দিতে বাধ্য হয়েছি। তার বাবা-মা হয়তো বিদেশি ছিল, হয়তো তুর্কমেন বা ইয়াজিদি, ঠিক জানি না। তার চেহারা দেখে মনে হয় না যে সে ইরাকি,’ বলেন সুকাইনা।

জানাতের মতো এসব শিশুর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা কেউ জানে না। ‘আগামী কয়েক মাসের মধ্যে যদি কেউ তার খোঁজখবর নিতে আসে তো ভালো কথা। কিন্তু তার বাবা-মা যদি মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে কেউ হয়তো আসবে না তার খোঁজে।’ সুকাইনা যেসব শিশুকে লালন-পালন করছেন তাদের বাবা মাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা হিসেবে সামাজিকমাধ্যমকে ব্যবহার করছেন।

 

কিন্তু সুকাইনার এই কর্মকান্ড নিয়ে অনেকেই খুশি নয়।

‘অনেক লোক আমাকে ফোন করে এবং বলে তারা আইএসের সন্তান, তাদের ছবি আপনি কেন পোস্ট করছেন? তারা আরো বলে, আইএস আমাদের বাচ্চাদের মেরে ফেলেছে। তুমি এদের কেন লালন-পালন করছ! তুমি তাদের এতিমখানায় ছেড়ে আস এবং তারপর তাদের পরিবার বুঝুক।’

এমনকি যারা আইএসের ওপর প্রতিশোধ নিতে চায় তাদের কাছ থেকে হুমকিও পাচ্ছেন সুকাইনা। আবার এখনো অনেকে আছে তারা আইএসের মতাদর্শে বিশ্বাসী।

‘ফেসবুকে আমাকে মেসেজ পাঠিয়ে সরকারের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ করা হয়েছে। তারা বলছে শিগগিরই আমার দিন ফুরিয়ে আসছে।’

এই নারী অবশ্য অত সহজেই ভয় পাচ্ছেন না। তিনি মনে করছেন, তার নিজের এবং এই শিশুদের নিরাপত্তা জরুরি। এখনো পর্যন্ত তার মূল লক্ষ্য এই শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাস খুঁজে বের করা।

"