সিরিয়ায় হামলা

জাতিসংঘে নিন্দা প্রস্তাব এনে ব্যর্থ রাশিয়া

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সিরিয়ার দৌমায় সরকারি বাহিনীর সন্দেহভাজন রাসায়নিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের একযোগে চালানো বিমান হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আনা রাশিয়ার প্রস্তাব খারিজ হয়ে গেছে। শনিবার মস্কোর আনা এ নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে বলিভিয়া ও চীন ছাড়া আর কেউ ভোট দেয়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। পেরু, কাজাখস্তান, ইথিওপিয়া ও একোয়াটোরিয়াল গিনি ভোটদানে বিরত ছিল; অপরদিকে তিন স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ আট সদস্য বিপক্ষে ভোট দিয়েছে।

দৌমায় সিরীয় বাহিনীর বিষাক্ত গ্যাস হামলার অভিযোগ ওঠার পর গত এক সপ্তাহে এ নিয়ে পাঁচবার নিরাপত্তা পরিষদ একত্রিত হলো।

সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি লক্ষ্য করে ইঙ্গ-মার্কিন-ফরাসি বাহিনীর ১০৫টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া এদিন বৈঠক ডেকেছিল।

‘যে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন, তার ফলের জন্য কেন আপনারা অপেক্ষা করলেন না’ প্রস্তাব খারিজ হয়ে যাওয়ার পর পরিষদের স্থায়ী তিন সদস্যের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দেন জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসেলি নেবেনজিয়া। সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন’ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ‘উত্তেজিত মাথাগুলো ঠান্ডা হয়ে আসবে বলে আশাবাদী আমি, সেটাই হওয়া উচিত’ সাংবাদিকদের বলেন নেবেনজিয়া। দৌমায় কোনো বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহৃত হয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখতে অর্গানাইজেশন ফর প্রোহিবিশন অব কেমিক্যাল উইপনের (ওপিসিডাব্লিও) তদন্ত কর্মকর্তারা সিরিয়ায় পৌঁছেছেন; শনিবার থেকেই দলটির কাজ শুরু করার কথা।

শতাধিক মিসাইল ছোড়া হয় সিরিয়ায় : সিরিয়ায় শতাধিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে মার্কিন মিত্ররা এবং এসব মিসাইলের অনেকগুলো ভূপাতিত করেছে সিরিয়ার এয়ার ডিফেন্স। শনিবার ভোর রাতে সিরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার একযোগে চালানো মিসাইল হামলার প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে এটাও বলা হয়, মিসাইল প্রতিহত করাতে রাশিয়ান প্রতিরক্ষার কোনো ইউনিট জড়িত ছিল না। বিবৃতিতে বলা হয়, এ হামলায় যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ থেকে মার্কিনবাহিনী ও তাদের মিত্ররা শতাধিক মিসাইল নিক্ষেপ করে। মিসাইলগুলো ছিল ক্রুজ মিসাইল ও এয়ার-সারফেস (আকাশ থেকে ভূমি অভিমুখে ছোড়া) মিসাইল।

লোহিত সাগরে অবস্থানরত দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের মাধ্যমে হামলাটি পরিচালনা করা হয়। তাছাড়া সিরিয়ার হোমস প্রদেশে মার্কিন জোটের বিমানঘাঁটি থেকে ‘রকওয়েল বি-১’ বোমার যুদ্ধবিমান সিরীয় অবস্থানে বোমা হামলা চালায়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরো জানায়, দামেস্কের ৪০ কি.মি. দূরের আল-দুমাইর এয়ারপোর্ট লক্ষ্য করে ১২টি ক্রুজ মিসাইল ছোড়া হয়। মিসাইলগুলোর প্রতিটিকেই সিরিয়ান এয়ার ডিফেন্স ভূপাতিত করে। মিসাইলগুলো ভূপাতিত করতে রাশিয়ার তৈরি সারফেস-টু-এয়ার (ভূমি থেকে আকাশের দিকে ছোড়া) মিসাইল ব্যবহার করে দামেস্ক।

কিন্তু রাশিয়া কোনো অংশ নেয়নি।

হামলার পরপর একটি পৃথক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, মার্কিন মিত্রদের ছোড়া মিসাইলগুলোর কোনোটিই সিরিয়ার তারতুস ও খোমেইমিম শহরে অবস্থিত রাশিয়ান এয়ার ডিফেন্স জোনে পৌঁছায়নি।

শনিবার ভোররাতে রাসায়নিক হামলার জন্য সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনীকে দায়ী করে বিভিন্ন সরকার-নিয়ন্ত্রিত স্থাপনার ওপর একযোগে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এ হামলাটিকে দেশটির ওপর পশ্চিমা শক্তির সবচেয়ে বড় হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

"