‘ট্রাম্প-কিম আলোচনা কয়েক সপ্তাহ পর’

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করতে কয়েক সপ্তাহ লাগবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। ট্রাম্প বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। দুই দেশের কোনো নেতা এই প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে চলা উত্তেজনা ও কথার লড়াইয়ের পর দুই দেশের শীর্ষ নেতার দেখা করার এ সম্ভাবনাকে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

টিলারসন বলেন, ‘ট্রাম্প কোনো এক সময় বলেছিলেন যে, তিনি কথা বলতে চান এবং সঠিক পরিস্থিতিতেই তিনি কিমের সঙ্গে সাগ্রহে সাক্ষাৎ করবেন। প্রেসিডেন্টের ওই কথার ভিত্তিতে আমি মনে করি এখন সে সময় এসেছে।’

জিবুতি সফরকালে টিলারসন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আর এখন কেবল দুই নেতার মধ্যে প্রথম সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করাটাই বিষয়। আলোচনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কয়েক সপ্তাহ লাগবে।’

ট্রাম্প এক সময় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমকে উন্মাদ আখ্যা দিয়েছিলেন, তাকে ‘রকেট মানব’ বলেছিলেন। তাছাড়া, এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা এর কোনো মিত্র দেশ আক্রান্ত হলে উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পাল্টা জবাবে কিমও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পাগল আখ্যা দিতে ছাড়েননি।

উত্তর কোরিয়ার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ভেঙে অস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বেপরোয়া মনোভাবের কারণে তাদের কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে ট্রাম্পের সহযোগীরা বরাবরই উদ্বিগ্ন থেকেছে। আর সে কারণেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালানোর নামে কালক্ষেপণ করে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার আরো সুগঠিত এবং সমৃদ্ধ করার চেষ্টা নিতে পারে বলে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তবে কিম এবার যেভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সাড়া দিয়েছেন তাতে বিস্ময় প্রকাশ করে টিলারসন বলেছেন, কিম কেবল আগ্রহই প্রকাশ করেননি, বরং তিনি যে সত্যিই আলোচনার আকাক্সক্ষা প্রকাশ করেছেন; আজ অবধি এটিই তার সবচেয়ে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।

দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে গত মাসে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিক ঘিরে দুই কোরিয়ার সম্পর্কের বরফ গলে; তারই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে সিউলের প্রতিনিধিরা পিয়ংইয়ংয়ে উত্তরের শীর্ষ নেতার সঙ্গে এক অভূতপূর্ব বৈঠকে অংশ নেন।

সেখান থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে কিমের আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন। কিম এবার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনায় রাজি হয়েছেন। আলোচনার সময় ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক পরীক্ষা থেকে সংযত থাকারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

"