জাপানের রাজকুমারীর বিয়ে যে কারণে স্থগিত

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাপানি রাজপ্রাসাদের ইম্পেরিয়াল হাউসহোল্ড এজেন্সি গত মঙ্গলবার একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাজকুমারী মাকো ও তার প্রেমিক কেই কোমুরোর বিয়ের যাবতীয় অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হলো। সেই বিবৃতিতে রাজকুমারী মাকো আর তার অতি সাধারণ কেরানি প্রেমিক কেই কোমুরো, দুজনের বক্তব্যই রয়েছে। ইম্পেরিয়াল হাউসহোল্ড এজেন্সির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিয়ের বিভিন্ন আচার, অনুষ্ঠান ও বিবাহিত জীবনের জন্য প্রস্তুতি নিতে দুজনের কেউই এখনো যথেষ্ট সময় পাননি। আর এক মাস পরেই মার্চে রাজকুমারী মাকো ও তার প্রেমিক কোমুরোর বিয়ের এঙ্গেজমেন্ট অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল সাড়ম্বরে। অনেক আগের ঘোষণা সত্ত্বেও জাপানি রাজপরিবারের কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান হঠাৎ স্থগিত হওয়ার ঘটনা আর ঘটেনি বললেই চলে।

যদিও যুবরাজ আকিশিনোর বড় মেয়ে ‘পাত্রী’ রাজকুমারী মাকো বলেছেন, মনে হচ্ছে, আমরা একটু তাড়াহুড়ো করে ফেলেছি। আমাদের অপরিণত মনষ্কতার জন্যই এটা ঘটেছে। এর জন্য আমরা দুঃখিত।

গত ১৭ মে জাপানি রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, রাজকুমারী মাকো বিয়ে করবেন কেই কোমুরোকে। পাত্র কোমুরো টোকিওর একটি ল’ ফার্মে সাধারণ কেরানির চাকরি করেন। এ-ও জানানো হয়, রাজপ্রাসাদের যাবতীয় সুখ, বিলাস ছেড়ে রাজকুমারী মাকোর রাজপথ গিয়ে মিশবে জনপথে। স্বামী কোমুরোর সঙ্গে সাধারণ জীবনযাপন করবেন রাজকুমারী মাকো।

মানুষের ধারণা হয়েছিল, শৈশব থেকে প্রাসাদের বৈভব উপভোগ করার পর এবার সম্ভবত বৈরাগ্য এসেছে তার! তাই রাজপ্রাসাদের বিলাস বৈভবের মোহ ছেড়ে তিনি মেতে গিয়েছেন আমজনতার স্রোতে। বিয়ে করতে চলেছেন এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেকে। পাত্র কেই কোমুরো তার বহু দিনের প্রেমিক। কলেজে পড়তে পড়তেই তার সঙ্গে আলাপ জাপানের রাজকুমারী মাকোর।

তবে জাপানি রাজবংশের বাইরে সাধারণ পরিবারের কাউকে বিয়ে করলেই তাকে বরাবরের জন্য রাজপ্রাসাদের যাবতীয় মোহ, সম্পত্তির অংশ পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হয়। তিনি রাজা হোন, রাজপুত্র, রাজকুমারী হোন বা রাজপরিবারের যে কোনো সদস্যই হোন না কেন। জাপানের রাজবংশের এটাই নিয়ম।

তাই ভালোবাসার টানে বরাবরের জন্য প্রাসাদ ছেড়ে রাজকুমারী চলে যাবেন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে, সেটা মন থেকে সে দিন অবশ্য অনেকে মেনেও নিতে পারেননি। জাপানি রাজকুমারীর বিয়ের রূপকথা ও কাহিনির সেই শুরু। তার পর নয় মাস তো খুব কম সময় নয়! মাকো-কোমুরোর এঙ্গেজমেন্ট অনুষ্ঠান তো হওয়ার কথা ছিল মার্চে। প্রশ্ন উঠছে, তা হলে খুব তাড়াহুড়ো কোথায়? গত মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে ওই বিয়ে স্থগিত রাখার ঘোষণা করে ইম্পেরিয়াল প্রিন্সেস হাউসহোল্ড অ্যাফেয়ার্সের সুপারভাইজর তাকাহারু কাচি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্রাট আকিহিতোর স্বেচ্ছায় সিংহাসন ছেড়ে দেওয়ার সময়সূচির সম্পর্ক রয়েছে।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে, আগামী বছরে স্বেচ্ছায় সিংহাসন ছেড়ে দেওয়ার কথা জাপানের সম্রাট আকিহিতোর। গত বছর মে মাসেই সম্রাটের সেই ইচ্ছার কথা রাজপ্রাসাদ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল। নয় মাস পর রাজকুমারী মাকো বিয়ে স্থগিত রাখার কারণ দর্শাতে গিয়ে কেন বললেন, খুব তাড়াহুড়ো করে ফেলছি আমরা। আমাদের অপরিণত মনষ্কতার জন্য তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কয়েক মাস ধরে জাপানের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন, ট্যাবলয়েডগুলোতে নিয়মিতভাবে এই খবর বেরোতে থাকে যে, পাত্র কোমুরোর পরিবারের অর্থনেতিক অবস্থা মোটেই ভালো নয়।

সাংবাদিক সম্মেলনের পর সন্ধ্যায় রাজপ্রাসাদের গাড়িতে চেপে টোকিওর মিনাটো ওয়ার্ডের আকাসাকা এস্টেটে ফিরে যান রাজকুমারী মাকো। কালো পোশাক পরা রাজকুমারী মাকো একবারও তাকাননি অপেক্ষারত সাংবাদিকদের দিকে। মাথা নিচু করে ঢুকে গেছেন এস্টেটে।

তার ১০ মিনিট পর পাত্র কোমুরোকে দেখা যায় টোকিওর চুও ওয়ার্ডে ঢুকতে। সেখানেই তার ল’ ফার্মের অফিস। কোমুরোও ছিলেন ভাবলেশহীন, অন্তত প্রকাশ্যে। আশপাশের কারো সঙ্গে কথা বলেননি। সাংবাদিকদের দেখে হাতও নাড়েননি।

গত মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে ওই বিয়ে স্থগিত রাখার ঘোষণা করে ইম্পিরিয়াল প্রিন্সেস হাউসহোল্ড অ্যাফেয়ার্সের সুপারভাইজার তাকাহারু কাচি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে স¤্রাট আকিহিতোর স্বেচ্ছায় সিংহাসন ছেড়ে দেওয়ার সময়সূচির সম্পর্ক রয়েছে।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে, আগামী বছরে স্বেচ্ছায় সিংহাসন ছেড়ে দেওয়ার কথা জাপানের স¤্রাট আকিহিতোর। গত বছর মে মাসেই স¤্রাটের সেই ইচ্ছার কথা রাজপ্রাসাদ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল। ৯ মাস পর রাজকুমারী মাকো বিয়ে স্থগিত রাখার কারণ দর্শাতে গিয়ে কেন বললেন, খুব তাড়াহুড়ো করে ফেলছি আমরা। আমাদের অপরিণতমনস্কতার জন্য তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কয়েক মাস ধরে জাপানের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন, ট্যাবলয়েডগুলিতে নিয়মিত ভাবে এই খবর বেরতে থাকে যে পাত্র কোমুরোর পরিবারের অর্থনেতিক অবস্থা মোটেই ভাল নয়। সাংবাদিক সম্মেলনের পর সন্ধ্যায় রাজপ্রাসাদের গাড়িতে চেপে টোকিওর মিনাটো ওয়ার্ডের আকাসাকা এস্টেটে ফিরে যান রাজকুমারী মাকো। কালো পোশাক পরা রাজকুমারী মাকো এক বারও তাকাননি অপেক্ষারত সাংবাদিকদের দিকে। মাথা নিচু করে ঢুকে গিয়েছেন এস্টেটে।

তার ১০ মিনিট পর পাত্র কোমুরোকে দেখা যায় টোকিওর চুও ওয়ার্ডে ঢুকতে। সেখানেই তাঁর ল’ফার্মের অফিস। কোমুরোও ছিলেন ভাবলেশহীন, অন্তত প্রকাশ্যে। আশপাশের কারও সঙ্গে কথা বলেননি। সাংবাদিকদের দেখে হাতও নাড়েননি।

"