মালদ্বীপ সংকট খারাপ হওয়ার শঙ্কায় জাতিসংঘ

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মালদ্বীপের চলমান রাজনৈতিক সংকট আরো খারাপ দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের। সংকটের মধ্যে মালদ্বীপে পৌঁছেছে ইইউ প্রতিনিধিদল গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মালদ্বীপের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে বলে জানায় এনডিটিভি। বৈঠকের পর কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া না হলেও সেখানে উপস্থিত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, মালদ্বীপে এখনো সংঘাতের খবর পাওয়া না গেলেও জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মিরোসøাভ জেঙ্কা সেখানকার পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরো খারাপ দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আদালত-সরকার দ্বন্দ্বে ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রটির রাজনীতিতে যে সংকট দেখা দিয়েছে, সেটা নিয়ে বৃহস্পতিবারই প্রথম নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা হয়। একই দিন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিনিধি দল মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও অনুমতি মেলেনি। সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে কারাদ- পাওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদ এবং তার দল মালদিভিয়ান ডেমক্রেটিক পার্টি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ১২ এমপিকে গত ১ ফেব্রুয়ারি মুক্তির নির্দেশ দেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্ট তাদের বিচারকে ‘অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলে বর্ণনা করে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন তাদের মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট ঘণীভূত হয়। ওই রায়ের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন প্রথমে পার্লামেন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেন এবং চারদিন পর দেশে ১৫ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেন তিনি। জরুরি অবস্থা জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিসহ দুই বিচারক এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমকে গ্রেফতার করা হয়।

দুই বিচারক গ্রেফতারের পর সুপ্রিম কোর্টের বাকি তিন বিচারক বিরোধী এমপিদের মুক্তির রায় প্রত্যাহার করে নেন। জাতিসংঘ, ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারত দুই বিচারক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট গাইয়ুমকে মুক্তি এবং জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু ইয়ামিন তাতে কর্ণপাত করেননি এবং তার সৎভাই গাইয়ুমকে গত বৃহস্পতিবার রাতে মাফুশি কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় সংবাদ সংস্থা মিহারু ডটকম। জরুরি অবস্থার জারির কারণ ব্যাখ্যায় এবং নিজের পক্ষে সমর্থন আদায়ে মিত্রদেশ চীন, পাকিস্তান ও সৌদি আরবে প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন ইয়ামিন। তার ওয়েবসাইটে বুধবার এক পোস্টে বলা হয়, ইয়ামিন তার অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রী মোহামেদ সাঈদকে চীনে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামেদ আসিমকে পাকিস্তানে এবং কৃষি ও মৎস সম্পদমন্ত্রী মোহামেদ শাইনিকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন। কিন্তু আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশ ভারতকে তিনি এড়িয়ে গেছেন বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। যদিও ভারত সরকার মালদ্বীপ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে জানায় এনডিটিভি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, মালদ্বীপের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে ট্রাম্প ও মোদি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসনের মর্যাদা সমুন্নত রাখার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

"