হাফিজকে চাঁদা দিলে শাস্তি : পাক সরকার

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানি রাজনীতির মূল স্রোতে গা-ভাসাতে মরিয়া চেষ্টা করছে লস্কর-ই-তৈয়্যবাপ্রধান হাফিজ সাঈদ। পাক সেনা ও আইএসআইয়ের একাংশের মদদও তার পেছনে রয়েছে বলে ধারণা ভারত ও আমেরিকার। কিন্তু মার্কিন চাপের ফলে হাফিজের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতেও বাধ্য হচ্ছে পাক সরকার। গতকাল সোমবার দেশের সব উর্দু সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে সরকার জানিয়েছে, হাফিজের তথাকথিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে কেউ আর্থিক সাহায্য করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ওই বিজ্ঞাপনে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, হাফিজ সাঈদের লস্কর-ই-তৈয়্যবা, জামাত-উদ-দাওয়া, ফালাহ-ই-ইনসানিয়ত এবং মৌলানা মাসুদ আজহারের জইশ-ই-মহম্মদকে কোনো চাঁদা দেওয়া বেআইনি। এগুলো জঙ্গি সংগঠন। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন জঙ্গিদের চাঁদা দিলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদ- এবং এক কোটি পাকিস্তানি টাকা জরিমানা হতে পারে। পাক সরকার হাফিজের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পরিকল্পনা করছে বলেও দাবি সে দেশের সংবাদমাধ্যমের একাংশের। এই পরিস্থিতিতে আবার আমেরিকার বিরুদ্ধে হুশিয়ারি দিয়েছেন হাফিজ। এক সম্মেলনে তিনি দাবি করেছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান আমেরিকাকে অনেক সাহায্য করেছে। কিন্তু সে কথা আমেরিকা ভুলে গেছে। এখন ওয়াশিংটন পাকিস্তানিদেরই হুমকি দিচ্ছে। আমেরিকার ‘দান’ ছাড়াও পাকিস্তান নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারবে।

 

 

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপুল অঙ্কের আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। টুইটারে পাকিস্তানকে হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প।

তবে পাক সরকার হাফিজকে নিয়ে কড়া মনোভাব দেখালেও মোটেই নিশ্চিন্ত নয় ওয়াশিংটন। বরং পাকিস্তানকে বাগে আনতে চীনের সাহায্য নেওয়ার কথা ভাবছে তারা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে জঙ্গিদের কার্যকলাপ সম্পর্কে আমেরিকা ও চীনের উদ্বেগ অনেকাংশেই এক। তাই ইসলামাবাদকে বাগে আনতে বেইজিংয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করা যেতে পারে।

ইতোমধ্যে আজ কূটনৈতিক অস্বস্তি বেড়েছে পাকিস্তানের। জেরুজালেম বিতর্ক নিয়ে হাফিজ সাঈদের সঙ্গে এক মঞ্চে এসেছিলেন পাকিস্তানে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত ওয়ালিদ আবু আলি। ভারত কড়া প্রতিক্রিয়া জানানোর পরে তাকে সরিয়ে দেয় ফিলিস্তিন। গত পরশু পাকিস্তান ওলামা কাউন্সিলের নেতা মৌলানা তাহির আশরাফি পাক সংবাদমাধ্যমে দাবি করেন, আবু আলিকে ইসলামাবাদে ফেরত পাঠাচ্ছে ফিলিস্তিনি সরকার। গতকাল সোমবার ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এ তথ্য ভুল। আবু আলিকে ইসলামাবাদে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা তাদের নেই।

 

"