বিশ্বজুড়ে নববর্ষ বরণ

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জমকালো আয়োজন আর আতশবাজিতে রঙিন আলোর ঝলকানির মধ্য দিয়ে নতুন বছর ২০১৮ সালকে বরণ করছে বিশ্ববাসী। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নতুন বছরে পা রেখেছে। বিশেষত পূর্বের দেশগুলোর ঘড়ির কাঁটাই প্রথম পৌঁছেছে নতুন বছরের ঘরে। প্রথমেই ২০১৮ সালকে স্বাগত জানিয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় কয়েকটি দ্বীপরাষ্ট্রসহ নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। এরপর জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, চীন, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুরসহ অনেক দেশ নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে।

প্রতিটি দেশের প্রধান শহরগুলোতে আতশবাজি দেখতে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস নিয়ে সমবেত হয় অসংখ্য মানুষ। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে আকাশ আতশবাজির ঝলকানিতে আলোকিত হয়। নতুন বছরকে বরণ করতে সেখানকার একটি টাওয়ারের বিশাল ঘড়িতে সময় দেখে রাত ১২টা বাজার জন্য অপেক্ষায় থাকে মানুষ। শুরু হয় কাউন্টডাউন। রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে দেখা যায় আলোর বর্ণিল ছটা। এর কয়েক ঘণ্টা পর অস্ট্রেলিয়াতেও মানুষ একইভাবে নতুন বছরে পদার্পণ করে।

বিশ্বজুড়ে আরো অনেক দেশে চলছে বর্ষবরণের বর্ণাঢ্য উৎসব। এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকাজুড়ে বড় বড় শহরগুলোতে মানুষ উৎসবে মেতে উঠেছে।

নববর্ষে সিডনিতে সি-প্লেন বিধ্বস্ত, নিহত ৬ : উত্তর অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র তীরবর্তী একটি নদীতে সি-প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার পর নিহত ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সিডনি থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের কোয়ান উপকূলের হাওকেসবারি নদীতে গত রোববার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ। পুলিশের ডুবুরিরা ৪৩ ফুট গভীর পানিতে ডুবে যাওয়া নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্য ফার্ম কম্পাস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ৫৮ বছর বয়সী রিচার্ড কাসিনস ও তার পরিবারের চার সদস্য এবং সি-প্লেনটির পাইলট গত রোববারের ওই দুর্ঘটনায় নিহত হন বলে জানিয়েছেন তার ফার্মের কর্মকর্তারাও।

নিহতদের মধ্যে আছেন কাসিনসের বাগদত্তা এমা বউডেন (৪৮), ১১ বছর বয়েসী মেয়ে, ছেলে উইলিয়াম (২৫) ও এডওয়ার্ড (২৩)। অস্ট্রেলিয়ান পাইলট পাইরেট গ্যারেথ মরগান (৪৪) নিহত ছয়জনের মধ্যে ছিলেন। এখন পর্যন্ত সি-প্লেনটির অবতরণস্থলও জানা যায়নি। তবে স্থানীয় মিডিয়া জানায়, সেটি দৃশ্যত ফ্লাইট কোম্পানি সিডনি সেপল্যানস? থেকে এসেছিল।

প্লেন দুর্ঘটনার কারণও জানাতে পারেননি তদন্তকারীরা। পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সুপার মাইকেল গোরম্যান বলেন, সিঙ্গেল ইঞ্জিনের সি-প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতর জানায়, ব্রিটিশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা সি-প্লেন দুর্ঘটনার বিষয়ে সিডনিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কর্মীরা কনস্যুলার সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত। প্রত্যক্ষদর্শী মাইলস ব্যাপ্টিস্ট জানান, সি-প্লেনটি নদীতে বিধ্বস্ত হওয়ার সময় তার থেকে ৫০০ মিটার দূরে ছিল। এটি ডানদিকে টার্ন নিয়ে চারপাশে ঘুরছিল। আগে এর পাখা ডোবে এবং পর মুহূর্তে সরাসরি পানিতে আঘাত হেনে বিধ্বস্ত ও ডুবে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একজন নারী জানান, আবহাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো নয়।

"