রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় কমিটি গঠনের ঘোষণা বি. চৌধুরীর

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে একটি জাতীয় কমিটি করার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কয়েকটি প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা ও প্রস্তাবনা দেন। ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতীয় কমিটি গঠন ছাড়াও আরো তিন ধরনের কর্মসূচির কথা জানান বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার রাশিয়া, চীন ও ভারতের দূতাবাসে যাওয়া, জাতীয় পর্যায়ে নাগরিক কমিটি গঠন করে দেশের পাঁচটি প্রধান শহরে সমাবেশ করা এবং ভারত, চীন ও রাশিয়ায় বাংলাদেশের দূত পাঠানো। পাঁচ শহরে সমাবেশের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে নাগরিক কমিটি গঠন করে দেশের পাঁচটি প্রধান শহরে সমাবেশ করা হবে। সর্বশেষ সমাবেশ হবে কক্সবাজার বা চট্টগ্রামে। শেষ সমাবেশে আমরা ১০ লাখ লোককে জড়ো করতে চাই। এর মাধ্যমে আমরা নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জানাতে চাই, আমরা তাদের পাশে আছি।’

সমাবেশের শুরুতে ড. কামাল হোসেন ও ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পক্ষে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। এতে তারা বলেন, বল প্রয়োগের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগে বাধ্য করা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম এবং সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারকে এই গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। দেশত্যাগী রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে একটি কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অপরিহার্য কর্তব্য। আমরা আশা করব মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ নৃশংস গণহত্যা বন্ধ করার জন্য মিয়ানমার সরকার এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ গণহত্যার জন্য প্রকৃত দায়ীদের অবশ্যই চিহ্নিত করতে হবে এবং অপরাধসমূহের প্রকৃতি নির্ণয় করার জন্য আন্তর্জাতিক কমিশন গঠন করা প্রয়োজন হতে পারে; যেন আন্তর্জাতিক আদালত অপরাধের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে পারে।’

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বক্তৃতাকালে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে বরখাস্ত করুন ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে কাজে লাগান। কোনো লজ্জা থাকলে এ সময়ে কেউ মিয়ানমার থেকে কিছু আনতে যায় না। এটা বুদ্ধিহীনের কাজ, এটা বিবেচনাহীন কাজ। বর্তমান সরকারের উদ্দেশে কাদের সিদ্দিকী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্যের চেষ্টা করুন। এ সুযোগ আর পাবেন না। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নিন। বক্তব্যে বিএনপির ত্রাণ আটকে দেওয়ায় সমালোচনা করেন কাদের সিদ্দিকী। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সংকীর্ণতা ছেড়ে দিন। রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে সবাইকে সুযোগ দিন।

দীলারা চৌধুরী বলেন, ‘মিয়ানমারে গণহত্যা চলছে। ৪০ বছর থেকে এ সমস্যা চলছে, যা এখন আমাদের জাতীয় অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলেছে। এ সমস্যা সমাধানে আমাদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত জরুরি বলে মত দেন তিনি।’ ফরওয়ার্ড পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমিন বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। চীন ও ভারত বাংলাদেশের বন্ধু কিন্তু মিয়ানমারের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে তারা মিয়ানমারের পক্ষে।’ তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা ৪০ বছরের পুরোনো। আস্তে আস্তে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন করতেই মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের মুসলমান হিসেবে আখ্যায়িত করছে।

"