তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন

একতরফা ওয়েজবোর্ডে কাজ হবে কি

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বারবার তাগাদার পরেও এখন পর্যন্ত প্রতিনিধির নাম না দেওয়ায় মালিকপক্ষকে বাদ দিয়ে ওয়েজবোর্ড গঠন করলে তা সাংবাদিকদের উপকারে আসবে কি না সেই প্রশ্ন তুলেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। ওয়েজবোর্ডে সরকার মধ্যস্ততার ভূমিকা পালন করে জানিয়ে তিনি বলেছেন, মালিক প্রতিনিধি ছাড়া একতরফা ওয়েজবোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত কঠিন হবে। বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রোববার তথ্য অধিদফতরের সামনে ডিজিটাল আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মজুরি বোর্ড গঠনের কাজ ৮০ ভাগ সম্পন্ন করেছি। মালিকদের প্রতিনিধি আমরা পাইনি, আমরা মালিকদের তাগাদা দিচ্ছি প্রতিনিধি দেওয়ার জন্য। এ ব্যাপারে দেন-দরবার চলছে এবং অনুরোধ করছি আপনারা অবিলম্বে প্রতিনিধি দেবেন, আমরা ওয়েজবোর্ড গঠন করব।

মালিকরা প্রতিনিধি না দিলে একতরফা ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করব কি না এটা একটা কঠিন সিদ্ধান্ত। আমি সাংবাদিক ভাই-বোনদের মঙ্গল চাই। আমরা মনে করি বিএফইউজে, ডিইউজে নেতাদের সঙ্গে এবং সরকারের সঙ্গে, সবশেষে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে যে এই রকম একতরফা ওয়েজবোর্ড গঠনের মধ্য দিয়ে আমার সাংবাদিক বন্ধুরা উপকার পাবেন কি পাবেন না।’

সাংবাদিকদের সর্বশেষ বেতন কাঠামো হয়েছিল ২০১২ সালে; এরপর সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ার পর সংবাদকর্মীদের দাবির মুখে নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও নবম ওয়েজবোর্ড গঠন না হওয়ায় আন্দোলনে রয়েছেন সংবাদকর্মীরা। সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব প্রতিনিধির নাম না দেওয়ায় বোর্ড গঠন করা যাচ্ছে না বলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

মালিকপক্ষ প্রতিনিধি দিতে সম্মত হয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু এখনো তারা প্রতিনিধি দেননি, আমরা ধৈর্য ধরে তাগাদা দিচ্ছি। আশা করছি মালিকরা প্রতিনিধি দেবেন। মালিকদের প্রতিনিধি পেলেই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করে দেব। ওয়েজবোর্ডে সরকার কেবল মধ্যস্ততার ভূমিকা পালন করে। এখানে সাংবাদিকপক্ষ ও মালিকপক্ষ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, তৃপক্ষীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে ওয়েজবোর্ডের বিষয়টি চূড়ান্ত করে।’ পাঁচ বছর পরপর ওয়েজবোর্ড দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক উত্থান-পতনের কারণে পাঁচ বছর অন্তর ওয়েজবোর্ড দেওয়া অতীতে সম্ভব হয়নি। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার ২০১৩ সালের সেপ্টম্বর মাসে বহু খাটাখাটনি করে ওয়েজবোর্ড দিতে সক্ষম হয়। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাঁচ বছর পূর্তি হবে। পাঁচ বছর পর যাতে গণমাধ্যমের কর্মীরা নবম ওয়েজবোর্ডর সুযোগ পায় এর সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই।

ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা ওয়েজবোর্ডের অধীনে নন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছি, কীভাবে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বন্ধুদের আওতায় আনা যায়, সে ব্যাপারে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করতে।’

ইনু বলেন, ‘ইতিহাস যতই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হোক ইতিহাস কখনো ধামাচাপা থাকে না। বঙ্গবন্ধু স্বমহিমায় বাংলাদেশে আবার উদ্ভাসিত। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন নাহার, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বেতারের মহাপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন প্রমুখ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

"