সাত খুনে হাইকোর্টের রায় পেছাল

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদ- অনুমোদন) ও আপিলের ওপর হাইকোর্টের রায়ের দিন পিছিয়েছে। ২২ আগস্ট রায়ের নতুন তারিখ ধার্য করেছেন বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। গতকাল রোববার এই মামলায় হাইকোর্টের রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল।

সাত খুন মামলায় চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি নিম্ন আদালত রায় দেন। রায়ে র‌্যাবের সাবেক ১৬ কর্মকর্তা ও সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও তার অপরাধ জগতের নয় সহযোগীসহ মোট ২৬ জনের মৃত্যুদ-ের আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া র‌্যাবের আরো নয়জন সাবেক কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়।

নিম্ন আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে আসে। গত ২২ মে হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। গত ২৬ জুলাই শুনানি শেষ হয়। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ, পরদিন মেলে আরেকটি লাশ। সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। দুই মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ গত ১৬ জানুয়ারি রায় দেন।

রায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্তরা হলেন সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের নেতা নূর হোসেন, র?্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক দুই কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম মাসুদ রানা, হাবিলদার মো. এমদাদুল হক, এ বি মো. আরিফ হোসেন, ল্যান্সনায়েক হিরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব আলী, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আসাদুজ্জামান নুর, সৈনিক আবদুল আলিম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন, সৈনিক তাজুল ইসলাম, সার্জেন্ট এনামুল কবির, নূর হোসেনের সহযোগী আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান, রহম আলী, আবুল বাশার, মোর্তুজা জামান, সেলিম, সানাউল্লাহ, শাহজাহান ও জামালউদ্দিন।

মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন পলাতক। তারা হলেন- সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন, সৈনিক তাজুল ইসলাম, নূর হোসেনের সহকারী সানাউল্লাহ ও শাহজাহান।

১০ বছর সশ্রম কারাদ-সহ বিভিন্ন মেয়াদে দ-প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- ল্যান্স করপোরাল রুহুল আমিন, এএসআই বজলুর রহমান, সৈনিক নুরুজ্জামান, কনস্টেবল বাবুল হাসান, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান, হাবিলদার নাসির উদ্দিন, করপোরাল মোখলেছুর রহমান ও এএসআই কামাল হোসেন। শেষ দুজন পলাতক।

"