শ্রম আইন সংশোধনীর খসড়া এ মাসেই

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটি চলতি মাসেই শ্রম আইন ২০০৬ সংশোধনীর প্রাথমিক খসড়া এবং আগামী নভেম্বর মাসে খসড়ার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শ্রম আইন ২০০৬-এর সম্ভাব্য সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটি এ পর্যন্ত তিনটি বৈঠক করেছে। চলতি মাসেই সম্ভাব্য সংশোধনী খসড়া এবং নভেম্বরে চূড়ান্ত সংশোধনী সরকারের কাছে দাখিল করবে।

তিনি বলেন, শ্রম আইন ২০০৬ এর আগেও ২০০৯, ২০১০ ও ২০১৩ সালে তিন দফা সংশোধন করা হয়েছে। ২০১৫ সালে আইনের বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশের বিদ্যমান শ্রম আইনটি শ্রমিকবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন করার জন্য তাগিদ দেওয়ায় এই আইনটি যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ব্র্যাক সেন্টারে এই আইনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে গত বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনব্যাপী ত্রিপক্ষীয় কমিটির বৈঠক শুরু হয়। আজ শনিবার বৈঠক শেষে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সরকারের কাছে দাখিল করা হবে।

‘বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ সংশোধনবিষয়ক কমিটি’ গঠন করার জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি আদেশ জারি করা হয়। নয় সদস্যের এই কমিটির সদস্যরা হলেন-বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের উপদেষ্টা কামরান টি রহমান, জাতীয় শ্রমিকলীগের কার্যকরী সদস্য আবদুুস সালাম খান ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের চৌধুরী আশিকুল আলম। মন্ত্রণালয়ের

যুগ্ম সচিব (শ্রম) কমিটির সদস্য সচিব কাম কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শ্রম আইন সংশোধন প্রসঙ্গে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সুস্থ শ্রম পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, মালিক-শ্রমিক সুষ্ঠু সমন্বয় এবং শ্রম অধিকার সুনিশ্চিতের প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। যা ২০০৯, ২০১০ এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালে তিনটি ধাপে সংশোধন করা হয়েছে। চলতি বছরের ৫ জুন শ্রম আইন সংশোধনের সম্ভাব্যতা পর্যালোচনার জন্য ত্রিপক্ষীয় (সরকারি, মালিক ও শ্রমিক) সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। কমিটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করে সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির কাছে জমা দেবে। শ্রম আইন সংশোধন কমিটি সংশোধনের সম্ভাব্যতা পর্যালোচনার জন্য গঠিত কমিটিকে কার্যপদ্ধতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

বাংলাদেশের শ্রমমান ও শ্রমিকের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে বাংলাদেশের শ্রম আইনের সংশোধনী আনা, ইপিজেড আইনে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করা, ট্রেড ইউনিয়ন বিরোধী বৈষম্যের তদন্ত করা এবং ইউনিয়নের নিবন্ধন স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে করার কথা বলা হয়েছিল। এ ছাড়া দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও শ্রম আইন সংশোধনের দাবি করে বেশ কিছু সংশোধনী আনার প্রস্তাব কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয় বলে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের কয়েকজন নেতা জানান। বর্তমানে দেশে প্রায় সাত হাজার ৫৩৭টি ট্রেড ইউনিয়ন কার্যকর রয়েছে।

"