নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন

২৮ টাকার পেঁয়াজ ৬৫ টাকা

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীসহ সারা দেশে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার পর গত দুই সপ্তাহে রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীতে যে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ২৮ টাকা কেজি, সেই পেঁয়াজই দ্বিগুণ বেড়ে গতকাল বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকায়। দাম বেড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও। বন্দরনগরীতে প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, যা গত দুই সপ্তাহের তুলনায় দ্বিগুণ। এদিকে, একই পথে হাঁটছে রসুন, মসলা এবং তেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার। এছাড়া মাছ এবং শাক-সবজির বাজারও চড়া। দাম বাড়ার জন্য অব্যাহত বৃষ্টিপাতকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। এসব পণ্যের দাম বাড়ায় হতাশ নি¤œ আয়ের মানুষেরা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমনই চিত্র।

তথ্য মতে, গত জুলাই মাসের শেষদিকে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ে দুই ধাপে। প্রথম দেশি পেঁয়াজ ২৮ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি শুরু হয়। এর দুই-তিন দিন যেতে না যেতেই প্রতি কেজিতে আরো পাঁচ টাকা বেড়ে যায়। অন্যদিকে, আমদানি করা পেঁয়াজের দাম তখন ২৫ থেকে বেড়ে ৩০ টাকা হয়। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে আরো দুই দফায় দাম বাড়ে দেশি এবং বিদেশি পেঁয়াজের। প্রথমে ৪০ থেকে ১০-১৫ টাকা বেড়ে ৫০-৫৫ টাকা হয়। আর সর্বশেষ গতকাল ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে দেশি পেঁয়াজ। অন্যদিকে, আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ৩০-৩৫ থেকে ৪০-৪৫ টাকা। আর গতকাল তা ৫৫ টাকায় উঠেছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আনিস জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। কারণ, পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাইকারি ব্যবসায়ীরা। দুর্যোগপূর্ণ এই অবস্থা চলতে থাকলে পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম আরো বেড়ে যাবে।

কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন দুলু মিয়া। পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে অবাক হয়েছেন তিনি। বলেন, ‘গত সপ্তাহে পেঁয়াজ কিনেছি ৪০ টাকা কেজি। এখন নাকি ৬৫ টাকা। এক সপ্তাহের মধ্যে ২৫ টাকা বেড়ে গেছে! এভাবে পেঁয়াজ, রসুন ও চালের দাম বাড়তে থাকলে আমরা কী খেয়ে বাঁচবো।’

একই পথে হাঁটছে রসুনও। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। খুচরা বাজারে ১৩০ টাকা কেজির বিদেশি রসুন এখন ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারণ, পাইকারি বাজারে যেটা ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হতো, তার দাম এখন ১২০-১৩০ টাকা। আর দেশি রসুন কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসলার দামও বাড়তির দিকে। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে প্রায় সব ধরনের মসলার দামই বেড়েছে। খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি জিরায় ৫০ টাকা বেড়ে ৪০০-৪৫০, দারুচিনিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩০০-৩৫০ এবং এলাচিতে ২০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ১৪০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। এছাড়া তেজপাতা ১৫০ থেকে ১৮০, সাদা গোলমরিচ ১০০০ এবং কালো গোলমরিচ ৮০০-৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

ভোজ্য তেল আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। গতকাল ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০ এবং প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭-১০৯ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এদিকে, গত সপ্তাহের বাড়তি দামেই বিক্রি হয়েছে কাঁচামরিচ। গতকাল কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৬০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি বেগুন ৬০-৮০, শিম ১২০, হাইব্রিড টমেটো ১৬০, দেশি টমেটো ১০০, শসা ৬০, কচুরলতি, ঝিঙ্গা ও ঢেঁড়স ৬০ এবং চালকুমড়া (প্রতি পিস) ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর পটোল, করলা, চিচিঙ্গা, কাঁকরোল ও কচুরমুখি ৬০-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি মোটা স্বর্ণা চাল ৪৪-৪৪, পারিজা ৪৪, মিনিকেট (উন্নত) ৫৪, মিনিকেট (সাধারণ) ৫২, বিআর-আটাশ ৪৮, নাজিরশাইল (উন্নত) ৫২, নাজিরশাইল (সাধারণ) ৫০, পাইজাম ৪৮, বাসমতী ৫৩, কাটারিভোগ ৭২-৭৩ এবং পোলাওয়ের চাল (পুরনো) ১০০ ও (নতুন) ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০, কাতলা ৩৫০-৪০০, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০, কৈ (চাষের) ২৫০-৩৫০ এবং ইলিশ ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মাংসের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল। ব্রয়লার মুরগি ১৬০, লেয়ার মুরগি ২২০ এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস ৫০০ এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

"