যা বলেছি সব মিথ্যা : রুবি

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘আমি মানসিকভাবে অসুস্থ। যা বলেছি, সব মিথ্যা কথা। সব বানিয়ে বলেছি। আমাকে গ্রেফতার করবে? কে আসবে, আসুক। আমি আমেরিকার সিটিজেন।’Ñ কয়েক দিন ধরে দেওয়া বক্তব্যকে মিথ্যা দাবি করে পুরোপুরি সুর পাল্টে এভাবেই বললেন এবার সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রুবি সুলতানা। গত সোমবার রুবি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সালমান শাহ আত্মহত্যা নয়, হত্যা করা হয়েছে দাবি করে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে বলেন, ‘আত্মহত্যা নয়, হত্যাকা-ের শিকার হয়েছিলেন সালমান শাহ; এবং তা করিয়েছিল তারই স্ত্রী সামিরা হকের পরিবার।’

গতকাল বুধবার প্রকাশিত একটি ভিডিওচিত্রে রুবি তার আগের দাবি থেকে কিছুটা সরে এসে বলেন, ‘এটা হত্যা, নাকি আত্মহত্যা, তা তিনি জানেন না। এটা ইনভেস্টিগেশন করলে বের হবে।’

কিন্তু তার পরের আরেকটি ভিডিওচিত্রে পুরোপুরি উল্টো বক্তব্য দিলেন রুবি। এবার তিনি আগের সমস্ত বক্তব্যকে মিথ্যা দাবি করে বসলেন।

উল্লেখ্য, সালমান শাহ হত্যা মামলার ১১ জন আসামির মধ্যে অন্যতম রুবির পুরো নাম রাবেয়া সুলতানা রুবি। যুক্তরাষ্ট্রের পেন্সিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় চায়নিজ স্বামী এবং দুই সন্তানসহ অনেক বছর ধরে বসবাস করছেন তিনি।

ফেসবুক লাইভে প্রকাশ করা নতুন ভিডিওচিত্রে রুবি বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে অসুস্থ। আমি যা কিছু বলেছি, এর কোনো মূল্য নেই। আমি প্রমাণ দিতে পারি, আমি মানসিকভাবে অসুস্থ। একা থাকি তো, এজন্য কিছুটা মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। হাজব্যান্ডের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, যা বলেছি, এটা ঠিক নয়। যা কিছু হয়েছে, তার জন্য সত্যিই আমি দুঃখিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘একাকী বসে বসে এসব ভাবতাম। যা বলেছি, সব মিথ্যা কথা। যা কিছু বলেন, কিছু যায়-আসে না। কারণ, আমি অসুস্থ। তোমরা গালিগালাজ দিলে কী হবে, আমারে তো পাবা না, আমি তো আমেরিকায় থাকি। আমি কিচ্ছু জানি না। এটা খুন হতে পারে, আত্মহত্যাও হতে পারে।’

ফেসবুক লাইভ থেকে রুবিকে খুনি বলে অভিযোগের জবাবে রুবি বলেন, ‘আমি খুনি, প্রমাণ কর। কিভাবে করবা। আমি কিন্তু বাংলাদেশি না, আমেরিকান সিটিজেন। আমাকে কোথা থেকে গ্রেপ্তার করবে, আসুক না। কে আসবে, এফবিআই আসবে। সামিরার ব্যাপারে যা বলেছি, তা মিথ্যা কথা। এগুলা মস্তিষ্কের কাহিনী। আমি সব বানিয়ে বলেছি।’

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন গার্ডেন এলাকায় ভাড়া বাসায় পাওয়া যায় অভিনেতা সালমান শাহর লাশ। ওই ঘটনায় সালমানের বাবা কমর উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। ২০০২ সালে মারা যান সালমান শাহর বাবা। লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে থাকা রুবির বিরুদ্ধে হত্যাকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ করে আসছিলেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। তখন পুত্রবধূ সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, চলচ্চিত্রের খল চরিত্রের অভিনেতা ও সালমানের বন্ধু আশরাফুল হক ওরফে ডন, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, রুবি, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ, সহকারী নৃত্য পরিচালক নজরুল শেখ, ডেভিড, মোস্তাক ওয়াহিদ, আবুল হোসেন খান এবং গৃহকর্মী মনোয়ারাকে ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে আদালতে আবেদন করেন নীলা চৌধুরী।

"