সামিরা কেন মুখ খুলছেন না

সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুমের প্রশ্ন

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রুবির প্রথম স্বীকারোক্তিতে নড়েচড়ে উঠেছিল সালমান শাহর পরিবার। তারা ভেবেছিল মৃত্যুর ২১ বছর পর এবার সালমানের মৃত্যুর আসল রহস্য উন্মোচিত হবে। কিন্তু রুবির এমন পল্টিবাজিতে সব থমথমে হয়ে গেল। কিন্তু সামলানের পরিবার এখনো আশা ছাড়েনি। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম বলেন, ‘একজন স্টেটমেন্ট দেওয়ার পর যদি অস্বীকার করে তাহলে এটা খতিয়ে দেখবে দেশের প্রশাসন। আমার মনে হচ্ছে, রুবিকে তার স্বামী মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার পর সে ভোল পাল্টেছে। তার ওইদিন কোনো সমস্যা হয়েছিল বলেই সত্য কথা বলছে।’ তিনি বলেন, ‘সামিরার বাবা হীরা কেন এত কথা বলছেন মিডিয়াতে? তার মেয়ে সামিরা, তার স্ত্রী কেন প্রকাশ্যে কথা বলছেন না? সব মিডিয়া সামিরার বাবা, স্বামীর কাছে না গিয়ে সামিরার মা, ও সামিরার কাছে যাক। তথ্য পেয়ে যাবে।’

আলমগীর কুমকুম বলেন, ‘এই মহিলা (রুবি) তো আমার কোনো আত্মীয় না। সে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরার মামি। সামিরাকে সে অকথ্য ভাষায় গালি দিল, পরে আবার বলছে যা বলছে ঠিক বলেনি। মানুষ যখন বিপদে পড়ে তখন সে কোরআনের কথা বলে। সে বিপদে পড়ে কোরআনের কথা উল্লেখ করেছিল। এখন আবার পল্টি মারছে। এসব বিষয় ঘেঁটে দেখতে হবে রাষ্ট্রকে।’

প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হবে কি না এ প্রসঙ্গে আলমগীর কুমকুম বলেন, ‘আমরা কারো সঙ্গে যাইনি। এর বিচার আল্লাহর কাছে ছেড়ে দিয়েছি এখন। সালমান শাহর মা (নীলা) সালমান মারা যাওয়ার পর তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ে বিচারের দাবিতে বিচানায় বসে কান্নাকাটি করে। এর বিচার একদিন হবেই।’ কান্নামিশ্রিত কণ্ঠে তিনি আরো বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর বাবা, কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারা দেশের মানুষের। তেমনটি ইমন আমাদের সন্তান, কিন্তু সামলান শাহ সারা দেশের। এখন দেশের মানুষের সম্পতি সালমান শাহ, দেশের মানুষই এর বিচার চাইবেন ও চাইছে। এত মানুষের আরজি প্রধানমন্ত্রী শুনবেন না। যে মামলাটি ২১ বছর পর নতুন সালমান খুনের আসামির মুখ দিয়েই নতুন করে জেগে উঠল সেই মামলার মীমাংসা চায় দেশবাসী।’ আর সামিরার বাবা মিডিয়ায় বক্তব্য দেন যে, ‘সালমান শাহ গরিব ছিল? তাকে নাকি টাকা দিত? তার তো ওইসময় ছয়টা গাড়ি ছিল। সালমান শাহ মারা যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে তার বউ সালমানের কাছ থেকে পঞ্চাশ লাখ লোন নিয়েছিলেন। এসব মনগড়া হাস্যকর কথা কেন বলে সালমান শাহর শ্বশুর?’

সবশেষে আলমগীর কুমকুম বলেন, ‘হজরত শাহজালালের দর্গায় কোনো আত্মহত্যাকারীর খবর হয় না। এটা নিয়মবহির্ভূত। অনেকবার চেষ্টা করেও কেউ গলায় ফাঁস, বিষ খাওয়া, আত্মহত্যাকারীর খবর দিতে পারেনি। সেখানে সালমান শাহকে কবর দেওয়া হয়েছে। সে সময় শাহজালালের মাজারের পাশে সালমান শাহকে কিভাবে খবর হয়েছিল? এটা হচ্ছে আল্লাহর কুদরত।’

"