তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা

চট্টগ্রাম ওয়াসার সেই জাকিরকে শুধুই সতর্ক করার সুপারিশ

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম ওয়াসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে উঠেছিল আর্থিক দুর্নীতি ও সরকারের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। এ নিয়ে দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদে খবর প্রকাশের পর গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদনে দায়ী ব্যক্তিকে শুধুই সতর্ক করার সুপারিশ করেছে কমিটি।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের প্রথম পাতায় ‘পাকিস্তানি ব্যাংকে ওয়াসার টাকা জমা নিয়ে প্রশ্ন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। এরপর ওই প্রতিবেদনের কপি সংযুক্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পাস-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ ফারক-উজ-জামান ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে অভিযোগের বিষয়ে মতামত জানানোর জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অনিয়ম খতিয়ে দেখতে গত ২ মার্চ চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (প্রকৌশল) আহ্বায়ক ও সচিবকে সদস্য করে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এদিকে তদন্ত শেষে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের আর্থিক বিধি লঙ্ঘন করে ওয়াসা তহবিলের ৪৯ দশমিক ১৯ শতাংশ টাকা বেসরকারি ব্যাংকে রাখার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী ২৫ শতাংশের বেশি টাকা বেসরকারি ব্যাংকে রাখা যায় না। তবে পত্রিকায় অভিযোগ ওঠার পর থেকে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি ব্যাংকে টাকা রাখার পরিমাণ কমে এসেছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাবে বেসরকারি ব্যাংকে টাকা রাখা হয়েছে ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ। অভিযোগ ওঠার সময় ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানে আট কোটি ২০ লাখ টাকা রাখা হয়। এখন টাকার পরিমাণটা কমেছে; পাকিস্তানের ওই ব্যাংক থেকে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে টাকা তুলে নেওয়ার কারণে এখন এফডিআর আছে মাত্র দুই কোটি টাকা।

তদন্ত প্রতিবেদন বলা হয়, অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন ভূঁইয়া কমিটির সামনে হাজির হয়ে দাবি করেন তার অধঃস্তন কর্মচারীরা বেসরকারি ব্যাংকে টাকা বেশি রাখার পক্ষে মত দিয়ে যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। এরপর হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (অর্থ) বেগম নাজমুন নাহরাইন ও হিসাবরক্ষক সোহেল রানা তদন্ত কমিটিকে বলেন, সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে ২৫ শতাংশের বেশি টাকা জমা রাখা উচিত হয়নি এবং জাকির হোসেন ভূঁইয়ার নির্দেশে তারা প্রস্তাবনা দিয়েছেন। এ ছাড়া এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুমোদন দেন। এদিকে ব্যাংকে আমানত রাখার বিষয়ে সরকারি টাকার নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য প্রতিবেদনে সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি; এতে আরো বলা হয়, বেসরকারি ব্যাংকে টাকা রাখার বিষয়ে অতি উৎসাহিত হয়ে দেড় পৃষ্ঠার নোট লিখেন জাকির হোসেন ভূঁইয়া। তবে তিনি যেহেতু অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ নন, তাই এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবনা পেশ করার কারণে তাকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা যায়।

এদিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার উপেক্ষা ও ছাড়পত্র ছাড়া এই কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে সিলেকশন গ্রেড নিয়েছেন এবং কমিটির সদস্য হয়ে সিলেকশন গ্রেড দিয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি মতামত দেয়, ‘সিলেকশন গ্রেড-সংক্রান্ত’ অডিট আপত্তিটি দ্রুত নিষ্পন্ন করা প্রয়োজন। সে পর্যন্ত তাকে কোনোপ্রকার আর্থিক সুবিধা না দেওয়া হোক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এবং ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) রতন কুমার সরকার বলেন, ‘তদন্ত শেষে গত ১৯ জুলাই ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে তদন্ত কমিটির তদন্ত কার্যক্রম, কার্যক্রমের ওপর বিশ্লেষণ, সুপারিশ ও মতামত দেওয়া হয়েছে। এখন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।’

"