ভিক্ষুকের ছাগল ‘ঘুষ’ নিলেন ইউপি সদস্য

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দিতে এক ভিক্ষুকের কাছ থেকে ছাগল উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলী হোসেন (৬৮) নামের এক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের বিরুদ্ধে। এমন ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঘর বরাদ্দের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে আজাহার আলী নামের এক ভিক্ষুকের কাছে পাঁচ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন আলী হোসেন। কিন্তু ওই ভিক্ষুকের কাছে এত টাকা ছিল না, কিন্তু তার একটা পোষা খাসি ছাগল ছিল। উপায়ান্তর না দেখে, ওই ছাগলটিই দিয়ে দেন ইউপি সদস্যকে। কিন্তু ১০ দিন পর ঘর না পেয়ে ওই ভিক্ষুক সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ দেয়। এতে ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায় এবং এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এদিকে, ছাগল নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও আলী হোসেন জানিয়েছেন, ‘সামনে কোরবানীর ঈদ, এজন্য চার হাজার টাকায় ওই ভিক্ষুকের কাছ থেকে আমি ছাগলটি কিনে নিয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘ছাগল কখনো ঘুষ হতে পারে না। এটা আমারে বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।’

ভিক্ষুক আজাহার আলী জানান, তার কোনো ঘর না থাকায় তিনি ওই ইউপি সদস্যের শরণাপন্ন হন। এর জন্য ইউপি সদস্য তার কাছে টাকা দাবি করেন। সময়মতো টাকা দিতে না পারলে বরাদ্দকৃত ঘর পাওয়া যাবে না বলেও তিনি সতর্ক করে দেন। এর দুই দিন পর তার বাড়ি গিয়ে চার হাজার টাকার বদলে তার পোষা ছাগলটি নিয়ে আসেন। বাকি এক হাজার টাকা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলেন।

ভিক্ষুক আজাহার আলী বলেন, ‘কষ্ট করি দুইটা ছাগল পুষি। তার একটা ঘর দেওয়ার নাম করে আলী হোসেন মেম্বর (ইউপি সদস্য) নিয়া গেছে। কিন্তু ১০ দিন পর দেখি, ঘরও নাই, ছাগলও নাই।

এ প্রসঙ্গে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন বলেন, ওই ভিক্ষুক আমার কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছে। আমি কুড়িগ্রামে মিটিংয়ে যাচ্ছি। ফিরে এসে বিষয়টি সমাধান করব।

অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবেন্দ্র নাথ ঊরাঁও জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আমি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলেছি, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"