নিষ্ঠুর রটনা সুমিকে বাঁচতে দিল না

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

সালাহউদ্দিন আহমেদ, নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র)

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমানের স্ত্রী নাদিয়া আফরোজ সুমি (৩২) আত্মহত্যা করেছেন। গত শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। স্বামীর অসুস্থতা, আর্থিক অনাটন ও শ্বশুরবাড়ির নিষ্ঠুর সমালোচনার কারণে এই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। তার আত্মহত্যার সময় একমাত্র শিশুপুত্র শামীম রহমানকে (৫) বলেছিলেন ৯১১ কল করে পুলিশকে ডাকতে। মায়ের কথা অনুযায়ী সে পুলিশকে কল দিলে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ আসার আগেই সুমি আত্মহত্যা করেন। পুলিশ এসে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (স্থানীয় সময় সোমবার ভোর) সুমির মরদেহ কুইন্স হাসপাতাল মর্গে ছিল। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় স্থানীয় জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে তার জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্র মতে, স্বামীর দীর্ঘ অসুস্থতা, স্বামীর পরিবারের অসহযোগিতায় বিরক্ত সুমি আত্মহত্যা করেছেন। ঢাকার খিলগাঁওয়ে সুমির জন্ম। তার আত্মহত্যার ঘটনায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে চাঞ্চল্যের পাশাপাশি শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর ইউএনএর।

প্রায় দেড় বছর আগে সুমির স্বামী মাহফুজুর রহমান ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে পাঁচ বছরের একমাত্র শিশুসন্তানকে নিয়ে একাই সংসারের ঘানি টানছিলেন সুমি। মাহফুজুর রহমান অসুস্থ হওয়ার পর তাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ডা. মাসুদুল হাসান, খুলনা সমিতির সভাপিত আসাদুল ইসলাম আসাদসহ আরো কতিপয় সুহৃদ ব্যক্তি। তবে একটি সংসার চালানোর জন্য এটি পর্যাপ্ত ছিল না। যার ফলে বাসার একরুম ভাড়া দিয়ে সংসার আর অসুস্থ স্বামীর সেবাকে জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়ে পরিবারের হাল ধরে রেখেছিলেন স্ত্রী নাদিয়া আফরোজ সুমি।

সূত্র মতে, অসুস্থ স্বামীর নিকট আত্মীয়দের থেকে সাহায্য পাওয়ার পরিবর্তে তার বিরুদ্ধে কুৎসা ও সন্দেহ রটনার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি। এ বিষয়ে ঘনিষ্ঠদের কাছে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করেছিলেন সুমি। সুমির এই করুণ পরিণতি নিয়ে কমিউনিটিতে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

জানা গেছে, খুলনা সমিতি ইউএসএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বিগত এক বছর নয় মাস আগে স্ট্রোকের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রায় দুই বছর ধরে তার চিকিৎসা চলছিল। বর্তমানে তিনি ফ্লাশিংয়ের একটি রিহ্যাব সেন্টারে চিকিৎসাধীন। স্ট্রোকের পর মাহফুজ দীর্ঘদিন অবচেতন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে উন্নত চিকৎসার ফলে তার অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও তার দেহের এক পাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়। রিহ্যাব সেন্টারে চিকিৎসাধীন মাহফুজ পরিচিতজনদের দেখে চিনতে পারছিলেন এবং একটু একটু কথাও বলতে পারতেন বলে সর্বশেষ খবরে জানা যায়। এই প্রবাসে তার স্ত্রী সুমিই তাদের পরিবারের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন। প্রবাসী খুলনাবাসীর ধারণা, অপবাদ সইতে না পেরে সুমি আত্মহত্যা করেছেন।

খুলনা সমিতির সভাপতি আসাদুল ইসলাম আসাদ জানান, ঘটনাটি নাদিয়া আফরোজ সুমির মাকে জানানো হয়েছে। তিনি ঢাকায় রয়েছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে সুমির খালা নিউইয়র্ক আসছেন। সুমির মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে মাহফুজ-সুমির একমাত্র সন্তান শামীম বর্তমানে খুলনা সমিতির উপদেষ্টা জিয়াউর রহমান লিটুর স্ত্রী হ্যাপি চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তার খালা আসার পর শামীমের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

"