ছাত্রলীগ নেতার পিটুনিতে তিন আ’লীগ নেতা হাসপাতালে

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

তালতলীতে চাঁদা না দেওয়ায় আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ ইমন নয়ন বেপারী ও তার লোকজন। গত রোববার রাতে তালতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহতরা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সোহরাব জোমাদ্দার, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তিন নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম ও একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সদস্য জাহাক্সগীর হোসেন।

আহতরা জানান, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের খোট্টারচর এলাকায় প্রস্তাবিত তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩০০ একর জমি ক্রয়ের জন্য উপজেলা আওয়ামীগ নেতা সোহরাব জোমাদ্দার, জাহাক্সগীর হোসেন ও আবুল কালাম মধ্যস্থতা করছিলেন। জমি মধ্যস্থতার জন্য উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নয়ন বেপারী তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু এ চাঁদার টাকা দিতে তারা অপারগতা প্রকাশ করেন। এরই জের ধরে তালতলী বাজারের একটি দোকানে গত রোববার রাতে প্রকাশ্যে নয়ন বেপারীর নেতৃত্বে সাত-আটজনের একটি দল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সোহরাব জোমাদ্দারসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। তাদের তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সোহরাব জোমাদ্দারকে ভর্তি রেখে বাকি দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে আহত তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সোহরাব জোমাদ্দার বলেন, ‘নয়ন বেপারী ছাত্রলীগের ব্যানারে সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, রাখাইন সম্প্রদায়ের মূর্তি চুরিসহ নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। আমাদের কাছে সে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় তারা হামলা চালায়। এ ঘটনায় তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহা. তৌফিকুজ্জামান তনু বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতার হাতে আওয়ামী লীগ নেতা লাঞ্ছিত হবেন, তা কিছুতেই মেনে নেওয়ার নয়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আহতরা আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নয়ন ব্যাপারী সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে, এ বিষয়ে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিক বলেন, ঘটনায় তদন্তে যদি নয়ন ব্যাপারীর অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, নয়ন ব্যাপারীর বিরুদ্ধে রাখাইন সম্প্রদায়ের বৌদ্ধমূর্তি চুরি ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বৌদ্ধমূর্তি চুরির ঘটনায় নয়ন ব্যাপারীকে অভিযুক্ত করে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্রও দাখিল করেছে।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবন্থা গ্রহণ করা হবে।

"